তৃণমূলের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে জনসেবা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের পরিচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব কবির আহমদ। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রনেতা থেকে দলীয় রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, জনপ্রতিনিধিত্ব এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও দলের একটি অংশের রোষানলে পড়ার অভিযোগও রয়েছে তার।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর হাত ধরে কবির আহমদের সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলার শুরু। ওই সময় তিনি তাজপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্ররাজনীতির শুরুতেই সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
পরবর্তীতে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনার হাত ধরে কবির আহমদ ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায় শেষে তিনি যুক্ত হন মূলধারার দলীয় রাজনীতিতে। তাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে তিনি ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নিজের সক্ষমতার পরিচয় দেন কবির আহমদ। ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড (কাদিপুর) থেকে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক সেবা ও এলাকার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পালনকালে জনকল্যাণ, নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানান।
তবে তার অভিযোগ,গত সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীর রোষানলে পড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের ঘটনাকে তিনি অনিয়ম ও অন্যায় বলে দাবি করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় কবির আহমদ তরুণদের মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তিনি ‘বাচন রক্তদান ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’ এবং ‘আল-এহসান সমাজকল্যাণ সংস্থা’র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ‘বৃহত্তর কাদিপুর যুব সমাজ সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
তাজপুর কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল রাজ্জাক সুরত বলেন,তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করায় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রত্যাশা ও সমস্যার সঙ্গে কবির আহমদের একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কবিরের অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কবির আছেন, থাকবেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।
তাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাকির মিয়া বলেন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে দলকে ভালোবেসে কাজ করা কবির আমাদের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী। কোনো কারণে কবির অভিমান করে দূরে থাকলেও খুব শিগগিরই আমরা আবার একসঙ্গে পথচলা শুরু করব।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কবির আহমদের সামনে এখন আরও বড় পরিসরে জনসম্পৃক্ততা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা। তাদের প্রত্যাশা, তৃণমূলের মানুষের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তিনি।
তাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নীরবতা ভেঙে কবির আহমদ আজ তাজপুরের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি আমাদের তাজপুরের ছায়া। দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে কবির আহমদকে দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে দল তাকে মনোনয়ন দেবে—এটাই আমাদের দাবি। অন্যথায় তাজপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কবির আহমদকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার উদ্যোগ নেবে।
কবির আহমদ বলেন,ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। আর জনসেবা করতে হলে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে এমন প্রত্যাশা আমার রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে তাজপুর ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।