নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ ডিমলা-ডালিয়া সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। পরিদর্শন শেষে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি কয় একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়া এবং তদারকির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও জুন মাসের শেষ দিকেও সড়কের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে তা পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নমানের খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুতের কাজ চলছিল। সড়কের দুই পাশের রেজিংয়ের কাজেও এক নম্বর ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ছিল। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ সম্পন্ন হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও বলেন, “প্রকল্পটি এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন হওয়ায় সরাসরি আমাদের দায়িত্ব নয়। তবে পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবহৃত খোয়া নিম্নমানের বলে মনে হয়েছে। তাই সেগুলো অপসারণ করে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুন মাস শেষ হলেও এখনো কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্ষা ও সম্ভাব্য বন্যা মৌসুমে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পরিদর্শনকালে উপসহকারী প্রকৌশলী জিকরুল আমিন পাটোয়ারী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার সাদ্দাম হোসেন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন