নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যমানের একটি দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি জানায়, গত (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ খঞ্জনপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ২৫১ এমপি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খঞ্জনপুর ঈদগাহ মাদ্রাসা মোড় সংলগ্ন একটি আমবাগানের পাশে চোরাকারবারিরা একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
সংবাদ পেয়ে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোঃ হাচানুর রহমান-এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল ক্রেতা সেজে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ২২ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের মূর্তিটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা মূর্তিটি উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে অধিনায়ক, পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর দিকনির্দেশনায় অভিজ্ঞ স্বর্ণকারদের মাধ্যমে নাইট্রিক এসিড ও স্বর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটি যাচাই করা হয়। পরীক্ষায় এটি অত্যন্ত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত হয়। জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকারদের মতে, উদ্ধারকৃত মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি টাকারও বেশি।
এদিকে আজ (১২ জানুয়ারি) পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, নওগাঁ-এর কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় থেকে আগত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মূর্তিটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানান, এটি ১১ থেকে ১২ শতকের মধ্যকার একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের প্রত্নসম্পদ।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিএসসি বলেন, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও অমূল্য সম্পদের অবৈধ পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।