1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
স্মৃতিতে তরমুজের সোনালী দিন: হালুয়াঘাটের কৃষকদের - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
৪২ বিজিবি কর্তৃক বিরল ও হরিপুর মাদক বাইসাইক্যাল উদ্ধার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় রুহুল আমিনের পদোন্নতি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসে অগ্নিকাণ্ড: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাটে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আগৈলঝাড়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত রোহিঙ্গা শিশুরা কি শিক্ষাবঞ্চিত একটি ‘হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম’ সাংবাদিক সেলিম খান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত :সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়ার আর্জি ০৭ নং ওয়ার্ড ঘোপখালীর মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ মেহেদী হাসান সাদ্দাম অসহায় মানুষের মাঝে বাজার সামগ্রী তুলে দেন মোহনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত: নিরক্ষরতা দূরীকরণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সুশাসন,স্বচ্ছতা,ও জবাবদিহিতার, প্রতিশ্রুতি নিয়ে আত্রাই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন মোঃ আরিফুজ্জামান (লেবু)

স্মৃতিতে তরমুজের সোনালী দিন: হালুয়াঘাটের কৃষকদের

reporter ফারুক হোসেন হালুয়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি
calendar প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট। একসময় শীতের শেষে যে সীমান্তে মাইলের পর মাইল সবুজ পাতায় ঢেকে থাকত তরমুজের খেত, আজ সেখানে কেবলই ধানখেতের ধোঁয়াটে ধূসরতা। বিগত ৫-১০ বছর ধরে টানা বোরো ধান চাষ করতে গিয়ে একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ছেন এই অঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা হাজারো কৃষক। একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে বোরো ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। লোকসানের এই বৃত্ত থেকে বের হতে কৃষকেরা এখন আবারও তাঁদের সেই পুরোনো ‘সোনালী ফসল’—তরমুজ চাষে ফিরে যেতে চান।

​স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক দশক আগেও হালুয়াঘাটের ধারা, ধোবাউড়া সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা এবং পাশের নড়াইল, জুঁইকুড়া এলাকার উর্বর বেলে-দোআঁশ মাটিতে বিপুল পরিমাণে তরমুজ চাষ হতো। এখানকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কম সময়, নামমাত্র খরচ আর অল্প পরিশ্রমে মিলত দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লাভ।

সীমান্ত এলাকার একাধিক প্রবীণ ও তরুণ কৃষকের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। স্থানীয় কৃষক রহিম মিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “আগে আমরা বোরো ধানের চেয়ে তরমুজ চাষ কইরা বেশি লাভবান হইতাম। ধান লাগাইয়া সার-ডিজেলের দাম তোলতেই কোমর ভেঙে যায়, আর তরমুজ আবাদ করলে ঘরে দুই পয়সা নগদ আইসতো। গত ১০ বছর ধরে ধানের পেছনে জমি আর মূলধন ঢালতে ঢালতে আমরা এখন প্রায় নিঃস্ব। আমরা আবার তরমুজ চাষেই ফিরতে চাই।”

​কৃষকদের এই সংকটের পেছনে কয়েকটি মুখ্য কারণ উঠে এসেছে:

​বোরো চাষে বিপুল লোকসান: প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক ও ধান কাটার শ্রমিক খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়, বাজারে ধানের বিক্রয়মূল্য তার চেয়ে অনেক কম।
​সীমান্তের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা: পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার ঝুঁকিতে প্রায়ই কাঁচা বা আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়।
​তরমুজের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: বোরো ধানের তুলনায় তরমুজের জীবনকাল কম। সঠিক সময়ে তরমুজ বাজারজাত করতে পারলে প্রতি বিঘায় ধানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব।
​স্থানীয় কৃষি পর্যবেক্ষকদের মতে, হালুয়াঘাটের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী বেলে-দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এবং সঠিক আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে কৃষকেরা ধীরে ধীরে তরমুজ চাষ থেকে সরে গিয়ে বোরো নির্ভর হয়ে পড়েছিলেন, যা এখন তাঁদের জন্য অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হালুয়াঘাটের প্রান্তিক চাষীদের আকুল দাবি—উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যেন সীমান্ত এলাকায় পুনরায় তরমুজ চাষের বিস্তার ঘটাতে এগিয়ে আসে। কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হলে হালুয়াঘাটের সীমান্ত এলাকা আবারও তরমুজের বিশাল বাজারে পরিণত হতে পারে।

​কৃষকদের বিশ্বাস, সঠিক সরকারি নির্দেশনা ও সহায়তা পেলে বোরো ধানের এই লোকসানি বৃত্ত ভেঙে তরমুজ চাষের মাধ্যমে আবারও তাঁদের ঘরে ফিরবে সমৃদ্ধি ও হাসিমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com