সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১৬ জন বাংলাদেশির মার্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩জনই নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। ইতোমধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত রোববার বাংলাদেশি সময় অনুযায়ী বিকেল ৩ টায় সৌদি আরবের রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানাধীন মুসাসানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংধাদেশি কর্মীদের পরিচালনাধীন একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ১৬ বাংলাদেশী মৃত্যু হয়। তার মধ্যে ১৩জনি আত্রাই থানার বাসিন্দা।
তারা হলেন পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে(১)জালাল হোসেন, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে(২) মিনহাজ, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে(৩)হাসিবুল হাসান শুভ, একই গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে(৪)সুমন হোসেন, খরসতি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে (৫)সাগর হোসেন, সাধনগর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে (৬)মজিদুল ইসলাম,
কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গুফফার রহমানের ২ ছেলে(৭)মোহন ও (৮)সুমন, একই গ্রামের জান্নার ছলে(৯) রুবেল হোসেন, ফজলুর ছেলে(১০)কলিমুদ্দিন, শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে(১১)ফরিদ শেখ, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের বেওলা গ্রামের(১২)হৃদয় ও(১৩) শাহিন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এছাড়াও অন্য এলাকার আরো তিনজন অগ্নিগ্ধ হয়ে মারা যান তারা হলেন(১) শামীম গ্রাম, দিঘীরপাড়,থানা, ললডাঙ্গা, জেলা,নাটোর,(২)সাব্বির গ্রাম খাজুরা থানা,নলডাঙ্গা জেলা,নাটোর (৩) শ্যামল গ্রাম,মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া থানা, বাগমারা জেলা রাজশাহী।
এ ঘটনায় উক্ত কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী গন্ডগোহালি গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, আমি দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে চুল কাটার জন্য ওই কারখানা থেকে বেরিয়ে যাই। ফিরে এসে কাখানাতে আগুন জলতে দেখি। এ কারখানাতে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১৬ জনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
একই সাথে তিনি আরও জানান, স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স বলেছেন, ৮ জন সরাসরি আগুনে পুরে গেলেও অপর ৮ জন কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যান। বিদ্যুতের সটসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন। রোববার অগ্নিকান্ডের পরপরই সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং সৌদি সময় রাত ১১ টায় উদ্ধার অভিযান শেষ করেন।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় নিহতদের পরিবারে চলছে শুধুই আহাজারি।
নিহত পরিবারের সদস্যরা
সরকারের কাছে দাবি তাদের পরিবারের সদস্যের লাশটা যেন দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, সৌদি আরবের রিয়াদ নগরীতে সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় আত্রাইয়ের ১১ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা নিহতের সংবাদ আমরা পেয়েছি। তবে ১১ জনের নাম ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই গভীর রাতে আমি গন্ডগোহালি গ্রামে নিহতদের পরিবারের নিকট গিয়েছিলাম। সোমবার অন্যন্যদের বাড়িতেও গিয়েছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের লাশগুলো দেশে আনার চেষ্টা করা হবে। এদিকে একসাথে উপজেলার ১১ জন রেমিটেন্স যোদ্ধার মার্মান্তিক মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক বার্তা পাঠানো হয়েছে।এই দুর্ঘটনায় আত্রাই-রাণীনগর এলাকার মাননীয়,সংসদ সদস্য, আলহাজ্ব রেজাউল ইসলাম রেজু গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার জন্য আশ্বাস প্রকাশ দিয়েছেন।