সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, খারিজ (নামজারি) ও বিভিন্ন মিস কেস নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং সময়মতো সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
ভুক্তভোগী সেবা প্রার্থীরা জানান, সরকারি নির্ধারিত ফি থাকলেও খারিজসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে তাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে একটি ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে এগোয় না বলেও দাবি করেন তারা। ফলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, সরকার ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. ফাইরুজ তাসনিম-এর বিরুদ্ধে সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও করেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সময়মতো অফিসে আসেন না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিস প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. ফাইরুজ তাসনিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আপনি আমার অফিসে আসেন। পরবর্তীতে অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবার ফোন করলে তিনি অন্য একদিন সময় দেওয়ার কথা জানান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারা সেবা গ্রহীতাদের তথ্যের- ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করুন।
অন্যদিকে, কাঁচপুর সার্কেল ভূমি অফিসে উপস্থিত এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার সঙ্গে কি হয়েছিল l পরবর্তী বিষয়টি তাহাকে অবগত করলে, ঐ সাংবাদিকের ভাষ্য, আপনি যেসব তথ্য- পেয়েছেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করুন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. ফাইরুজ তাসনিমের বিস্তারিত বক্তব্য না পাওয়ায় সেবাপ্রার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলো।
ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়মতো সেবা নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।