সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের মটিয়ারপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নূরানী কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে বেতন নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার অধিকাংশ পরিবার নিম্ন আয়ের হওয়ায় অনেক অভিভাবকের পক্ষে নিয়মিত এ অর্থ পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বা এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে পৃথক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা নজরদারি চোখে পড়েনি। এতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মটিয়ারপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শাহাদাত হোসাইন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা তিলকে তাল বানান, আর তালকে তিল বানান,আকার বাদ দিয়ে ওকার বানান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. এলেজা সুলতানা মুঠোফোনে জানান “এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন থাকতে হয়। একই সময়ে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি একই সময়ে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ না থাকে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম কীভাবে চলেছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।