জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে সংগঠনের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। একই অনুষ্ঠানে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং নান্নুর প্রতি দলীয় মূল্যায়ন নিয়েও নানা বক্তব্য উঠে আসে।
গত রোববার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নান্নু। তাকে স্মরণ করে মঙ্গলবার আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির এক-তৃতীয়াংশ নেতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, “কমিটি হওয়ার পর এটি প্রথম কর্মসূচি। কিন্তু আজকের উপস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন নেতা-কর্মীর দাবি, সভাপতি-ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থিদের মধ্যে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে সংগঠনের অভ্যন্তরে গ্রুপিং আরও প্রকট হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আলোচনা সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যখন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মির্জা ইউসূফ বিন জলিল কালু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নান্নু দলীয় অবহেলার শিকার হয়েই দুঃখ-কষ্ট নিয়ে পৃথিবী ছেড়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের হয় মূল্যায়ন করুন, না হয় দল থেকে বের করে দিন।” এ সময় রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সান্ত্বনা দেন।
অন্যদিকে, সদ্য ঘোষিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতারা জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মাঠে নান্নুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় পৃথক দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেন। সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মী অংশ নেন।
আয়োজকদের দাবি, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
পৃথক দোয়া মাহফিলে ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, আবুল হাসান, মাসুদ সরকার, তৌহিদ হোসেন রিয়ন তালুকদার, দেওয়ান অলিউদ্দিন সুমন, মিজানুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, শরীফ হাফিজুর রহমান, গোলাম ফারুক, খালেদ মাহমুদ মাসুদ, আসাদুল আলম টিটু, আমান উল্লাহ বিপুল, বাছেদুর রহমান সোহেল, শাহিনুজ্জামান মিন্টুসহ আরও অনেকে।
নান্নুর মৃত্যু এবং তাকে ঘিরে আয়োজিত স্মরণসভা ও পৃথক দোয়া মাহফিল যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
(প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত গ্রুপিং, ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতি ও দলীয় অবহেলার অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংযোজন করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।)