কক্সবাজারের পেকুয়ায় পানিবন্ধি ৭হাজার পরিবারকে দেয়া হয়েছে শুকনো খাবার। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থতির অবনতি ঘটে। এরই মধ্যে মাতামুহুরী নদীর শাখা নদী ভোলা খালের বাঘগুজারা অংশে প্রায় ৫০ ফুট বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। বেড়িবাঁধের বিলীন অংশ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে করে উপজেলার সদরের পৌরসভা, মেহেরনামায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়। অপরদিকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে শীলখালী, বারবাকিয়া,ও টইটং ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা,রাজাখালী ও উজানটিয়াসহ ৭ ইউনিয়নের বিপুল এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়। এদিকে সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলার ৭ ইউনিয়নের জন্য জরুরী শুকনো খাবারের বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারের একই মন্ত্রণালয় থেকে পানিবন্ধি মানুষের জন্য জি আর চালও বরাদ্ধ দেয়া হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার ৭ ইউনিয়নেই জি আর চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ওইদিন সকালে শীলখালী ইউনিয়নের সবুজ পাড়া, জারুলবুনিয়া ও কাছারীমুড়া ষ্টেশনে শুকনো খাবার বিলি করা হয়। পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম,শীলখালীর ইউপি’র চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে পানিবন্ধি মানুষের হাতে শুকনো খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। একইদিন উপজেলা রাজাখালী ইউনিয়নে ১হাজার উপকারভোগীর মাঝে জেনারেল রিলিফ (জি আর) এর আওতা খাদ্যশস্য বিতরণ করে। একইভাবে ওই ইউনিয়নে পানিবন্ধি জনগণের মাঝে ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিলি করেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা রাজাখালী ইউপি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারী দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে পেকুয়া সদরের পৌরসভা ও পেকুয়া সদরেও জি আর চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ ও পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দূর্গতদের মাঝে সরকার প্রদত্ত চাল ও শুকনো খাবার তুলে দেন।
এদিকে সৃষ্ট বন্যায় স্রোতের পানিতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা ও আলিগ্যাকাটায় পৃথক দুটি অংশে পাউবোর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। বিলীন অংশ দিয়ে মাতামুহুরী নদীর প্রবল স্রোত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বন্যা পরিস্থতির অবনতি হয়। সোমবার সকালে পৃথক দুটি বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন অংশে পানি আটকানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ’র প্রচেষ্টায় বেড়িবাঁধের বাঘগুজারা অংশ ও আলিকগ্যাকাটা অংশে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন করেন। খুটি, বাঁশের বেড়া ও বস্তা দিয়ে ভাঙ্গনকবলিত বেড়িবাঁধে পানি প্রবাহ আটকিয়ে দেয়া হয়।