ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বিপরীতে বহুতল ভবন, মার্কেট ও বিপুল পরিমাণ জমির মালিক হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, আবুল কালাম আজাদের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কালাম আজাদকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিভিন্ন সনদের জন্য তাদের একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও করেছেন তারা।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হতো এবং টাকা না দিলে আবেদন বা ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামসোনা ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনের আগে আবুল কালাম আজাদ তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে একটি কথিত ‘সাংবাদিক গ্রুপ’ ব্যবহার করা হতো। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা সাধারণ ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ বা অনুসন্ধানের চেষ্টা করলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, বাধা দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কালাম আজাদের নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কতটুকু সম্পদ রয়েছে এবং এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।