দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামে মিললো সক্রিয় চক্রের দুই সদস্য । টার্গেট আপনার মা, বোন,কিংবা তো স্ত্রী। চক্রটি গ্রামের সহজ সরল মহিলাদের ছবি সংগ্রহ করে সিংগাপুরের নিবন্ধিত পপ্প লাইভ ( poppo Live) নামক এক ওয়ায়েবসাইটে ব্যবহার করে লুটিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
দৈনিক ঘোষণার অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতারক চক্রের দুই সদস্য হলো পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের হাসিনা (৪০) এবং তার মেয়ে সাবিনা (২২)। শনিবার দুপুর ২.১৫ মিনিটে তারা নিজেদেরকে হাকিমপুর কৃষি অফিসসহ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাঠপাড়া গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে যায়। এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তারা গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে এবং কৌশলে তাদের ছবি তোলে।
এই সংগৃহীত ছবিগুলো poppo Live’ নামক একটি সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ওয়েবসাইটে গ্রামের সহজ-সরল ও অসচেতন মহিলাদের ছবি ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের একটি নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই চক্রটি মূলত ওই মহিলাদের ছবি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে নতুন আইডি তৈরি করে এবং লাইভে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কথা বলে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে।
এর ফলে, যেসব নারীদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে, তারা একদিকে যেমন সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে চরম নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতেও পড়ছেন। এই ধরনের কার্যকলাপ মহিলাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদাকে লঙ্ঘন করছে।
মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী শিমু বেগম (৪০) জানান, শনিবার দুপুরে তাঁর বাসায় দুজন মহিলা আসেন। তাঁরা শিমু বেগমের কাছে ঘরের সংখ্যা এবং পরিবারের সদস্য সম্পর্কে জানতে চান। শিমু বেগম সব তথ্য দেওয়ার পর তাঁরা তাঁর ছবি তুলতে চান। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, তাঁরা জনশুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছেন। এই কথা বলে তাঁরা শিমু বেগমের ছবি তুলে নিয়ে যান।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ভুক্তভোগী আবু তাহের জানান, তাঁর বাসায় এসে তাঁর মা ও স্ত্রীর ছবি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আবু তাহের বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা নিজেদেরকে কৃষি অফিসের কর্মী বলে পরিচয় দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য, হাসিনা (৪০) এবং তার মেয়ে সাবিনা (২২), একাধিক স্মার্টফোন ব্যবহার করে ‘Poppo Live’ নামের একটি অ্যাপে কাজ করছেন। তাদের এই কার্যক্রম নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
সাবিনা (২২) প্রথমে ছবি সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, Poppo Live-এ কাজ করার জন্য ছবির প্রয়োজন হয়। তাই ছবি তোলার সময় তিনি বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করতেন। যখন তাকে এই অ্যাপের সন্ধান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি জানান যে টিকটকে প্রচারিত ভিডিওর মাধ্যমে তিনি এই ধরনের কাজের সন্ধান পান। এরপর তিনি সিঙ্গাপুরে বসবাসরত কিছু বাংলাদেশি ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে এই কাজ শুরু করেন।
অন্যদিকে, চক্রের আরেক সদস্য সাবিনার মা হাসিনা (৪০) ভিন্ন ধরনের তথ্য দেন। তিনি দাবি করেন, তারা মুখের ছবি তোলেন না, বরং শুধু চোখের ছবি তোলেন। তবে চোখের ছবি তোলার সময় মাঝে মাঝে মুখের ছবিও উঠে যায়। হাসিনা আরও বলেন যে, একটি ছবি ব্যবহার করে একটি আইডি তৈরি করা হয়, যার মেয়াদ থাকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। এই পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তারা সেই আইডি দিয়ে Poppo Live অ্যাপে লাইভ করে টাকা আয় করেন। একপর্যায়ে তিনি এই কাজকে “তেমন খারাপ কিছু নয়” বলেও মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ আরজিনা বেগম বলেছেন, তাঁদের কৃষি অফিস থেকে এই ধরনের কোনো প্রকার ছবি সংগ্রহের কার্যক্রম জারি করা হয়নি। যদি কেউ কৃষি অফিসের কথা বলে এমন কিছু করে থাকে তাহলে তা অবশ্যই অসচেতন নারীদের সাথে প্রতারণা করছে।সুতরাং এমন প্রতারক চক্রকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সাথে, গ্রামবাসীদেরকে এ ধরনের প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি ।