পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ১৩ বছর বয়সী এক হাফেজিয়া মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তাকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর বাবা মো. নুর আলম বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা এলাকার কাঠমিস্ত্রী মো. নুর আলমের ছোট মেয়ে মোছা. উম্মে হাবিব (১৩) আঠারখাড়ি নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে আঠারখাড়ি এলাকার মো. ফয়জুল হকের ছেলে মো. বেলাল (১৯) তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এতে সাড়া না দেওয়ায় বেলাল ও তার সহযোগীরা উম্মে হাবিবকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুন ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উম্মে হাবিব মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বেলাল এবং তার সহযোগী মো. সাদেকুল (৩০) ও মো. মজিবুল (৩০) জোরপূর্বক তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নসুরাপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চলে যেতে দেখে পিছু নিলেও অভিযুক্তদের ধরতে পারেননি।
ঘটনার পর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও উম্মে হাবিবের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। পরবর্তীতে নুর আলম অভিযুক্ত বেলালের বাবা মো. ফয়জুল হকের কাছে যান। নুর আলমের অভিযোগ, ফয়জুল হক তার ছেলে ও মেয়ের অবস্থান জানেন বলে স্বীকার করেছেন এবং বেলালের সঙ্গে উম্মে হাবিবের বিয়ে দিলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে শর্ত দেন। এই শর্তে রাজি না হওয়ায় নুর আলমকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপহৃত ছাত্রীর বাবা মো. নুর আলম বলেন, “আমার মেয়েটা অবুঝ, নাবালিকা। তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। আট দিন হয়ে গেল, এখনো আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। ওর মা না খেয়ে শুধু কাঁদছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার মেয়েকে দ্রুত সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
এদিকে ঘটনার আট দিন পার হলেও নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সহপাঠীরা। তারা অবিলম্বে ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ লাইছুর রহমান জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।