নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক (শুটিবাড়ী হয়ে) সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা প্রকৌশলীর লিখিত নির্দেশনারও প্রায় এক মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সেই নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে পুরো নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে। এতে গয়াবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী ও নাউতারা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সমায়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছে। প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার টাকায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় নীলফামারীর মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
শুটিবাড়ী হাটকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই সড়কটি চার ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদর ও রংপুরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের চলাচলের জন্যও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ধুলাবালি, ভাঙাচোরা অংশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
এর আগে গত ২৯ জুন সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমানসহ এলজিইডির কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে সড়কে ব্যবহৃত ইটের খোয়া নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তা অপসারণ করে শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, এলজিইডি প্রকল্প হওয়ায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও পরিদর্শনে ব্যবহৃত ইটের খোয়া নিম্নমানের মনে হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তা সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর উপজেলা প্রকৌশলীও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিত নির্দেশনা দেন। তবে এক মাস পার হলেও সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি। নিম্নমানের ইটের খোয়া যেমন অপসারণ করা হয়নি, তেমনি নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে।
শুটিবাড়ী হাট-বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে সড়কের খোয়া ইতোমধ্যে ভেঙে যেতে শুরু করেছে। এভাবে কাজ হলে সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী শাহ আলমের অভিযোগ, রাবিশ ইটের খোয়া ব্যবহার করায় একটি ভ্যান চলাচল করলেই খোয়াগুলো গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহাবুব হোসেন বলেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লিখিত নির্দেশনার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে নীলফামারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসান জানান, অভিযোগ তদন্তে জেলা কার্যালয় থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাজ বন্ধ, বিল স্থগিত, জামানত জব্দসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, কাজের বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণ করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত উপকরণ দিয়ে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস-এর ব্যবসায়িক অংশীদার সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।