বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে যত দ্রুত কর্ম জীবনে প্রবেশ করতে চায়, কারণ পরিবারের দায়িত্ব তাকে নিতে হয় | তাই যত কম সময়ে পেশাগত মৌলিক শিক্ষা শেষ করা যায় |
বাংলাদেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা। দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতে তাদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে দ্রুত প্রবেশের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার মেয়াদ ও কাঠামো নতুনভাবে মূল্যায়নের দাবি উঠছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যমন:যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য কানাডা জার্মানি অস্ট্রেলিয়া ডিপ্লোমা বা সমমানের টেকনিক্যাল শিক্ষার কাঠামো এক রকম নয়। কোথাও দুই বছর, কোথাও আড়াই বা তিন বছর, আবার কোথাও শিক্ষানবিশ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ কেবল শিক্ষার মেয়াদ নয়, বরং কীভাবে দক্ষতা অর্জন হচ্ছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে প্রশ্ন হল বাংলাদেশে চার বছর সময় নেওয়া হচ্ছে কেন? এতে করে শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় হচ্ছে | বাংলাদেশে যদি পাঠ্যক্রমকে আধুনিক করা যায়, অপ্রয়োজনীয় বিষয় কমানো যায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ নিশ্চিত করা যায় এবং দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন চালু করা যায়, তাহলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেয়াদ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাবে, পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ কমবে এবং দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করবে।
তবে মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত যেন কখনোই শিক্ষার মান কমিয়ে না দেয়। ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্পকারখানার সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম নিশ্চিত না করে শুধু সময় কমিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। দক্ষতা কমে গেলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে বাংলাদেশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।
তাই সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পর্যালোচনা করা উচিত। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন কাঠামো চালু করে তার ফলাফল মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, সময়ের দাবি হলো যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেয়াদ কমানো হবে কি না, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো কম সময়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করা। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক কারিকুলাম এবং কার্যকর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে বলেই প্রত্যাশা। তাই বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয়টি নিয়ে ভেবে সময়োপযোগী সমাধান করা |