মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকালে হাউসদি বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় মুরাদ মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে মৃত সিরাজ খাঁর ছেলে বাবু খাঁ আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় মুরাদ মোল্লা প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন উভয় পক্ষকে শান্ত করে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
একই দিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে হাউসদি বাজারের রশিদ মোল্লার মিষ্টির দোকানে বিল্লাল খাঁ ও তার সহযোগীরা গেলে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিল্লাল খাঁ ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা দিয়ে রশিদ মোল্লার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও অভিযুক্তরা পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আব্দুর রহিম মোল্লার নির্দেশে বিল্লাল খাঁ, গিয়াসউদ্দিন খাঁ, ছানোয়ার খাঁ, রাসেল খাঁ, লুবনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ভিকটিমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় আব্দুর রশিদ মোল্লা, সরোয়ার হোসেন মোল্লা, মুরাদ মোল্লা ও সফরজান বিবি গুরুতর আহত হন। হামলার সময় সফরজান বিবির দুটি দাঁত ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা মুরাদ মোল্লার দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে দোকানে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদ মোল্লাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং সরোয়ার হোসেন মোল্লা, মুরাদ মোল্লা ও সফরজান বিবিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।