1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে নজর - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
গাজীপুরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতন চালিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ। চাটমোহরে ঘোড়া ফজলুর বিরুদ্ধে মামলা। পাঁচ মাদক সেবীর কারাদন্ড মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্সের জেসমিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন, টাকা ফেরত ও শাস্তির দাবি চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর যুবদলে যোগদান খুলনায় হেলদি সিটি ফোরামের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে বাঙ্গালহালিয়াতে মানববন্ধন গফরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ১ জলঢাকায় তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে নজর

reporter মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো
calendar প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৭ অপরাহ্ণ

খুলনা অঞ্চলের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসতো কাঁচাপাট ও পাট পন্য থেকে। দ্ধিতীয় অবস্থানে চিংড়ি। গত এক দশক ধরে কাঁচাপাট রপ্তানিতে ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগীতা, পাশ্ববর্তী দেশের ভেনামি চিংড়ির সহজ লভ্যতা সহ নানা কারনে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ির ও জৌলুস কমেছিল। এমন অবস্থায় চিংড়ির হারানো গৌরব ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। তাদের তৎপরতায় বাড়ছে চিংড়ি উৎপাদন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে খুলনাঞ্চল থেকে চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

আগামি ৫ বছরের মধ্যে এটা দ্ধিগুন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ৫ বছরে খুলনাঞ্চল থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৮ মেট্রিকটন মৎস্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। এছাড়া গত পাঁচ বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৬২৯ টন চিংড়ি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। সুত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনাঞ্চলে মোট উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫১ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে ১৯ হাজার ৫১২ মেট্রিকটন। যা থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে খুলনাঞ্চল হতে চিংড়ি রপ্তানির হার ৪২ দশমিক ১৯ শতাংশ। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানাগেছে, চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তর বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ হাজার ৭৫০ জন চিংড়ি চাষিকে উন্নত চিংড়ি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান,সাড়ে সাত হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উপকরন প্রদান, ক্লাস্টার ভিত্তিক চিংড়ি চাষের মাধ্যমে সনাতন চিংড়ি চাষিদের ফলাফল প্রদর্শন করার মাধ্যমে অন্যান্য চাষিদের উদ্ধুদ্ধ করা, চিংড়ি চাষিদের খামারের বায়োসিকিউরিটি ও হাইজিন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গুনগত ও মানসম্মত চিংড়ি উৎপাদনে কার্যকর ভুমিকা গ্রহণ করা, থার্ড পার্টি সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির ভালো দাম পাওয়ার বিষয়ে চাষিদের উদ্ধুদ্ধ করা প্রভৃতি।

খুলনা বিভাগীয় মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা লিপটন সর্দার বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন বাড়ানের বিকল্প নাই। এক্ষেত্রে চিংড়ির উৎপাদন ও গুগগত মান বৃদ্ধিতে সরকারকে শুধু চিংড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমুলক প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারনেও চিংড়িকে আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে। চিংড়ি চাষের এলাকা নির্ধারন বা জোনিং, অবকাঠামো উন্নয়ন, সময়মত পানি ও রোগমুক্ত পোনা, মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। চিংড়ি চাষের ইনপুটস সমুহ ( পোনা, খাদ্য, ঔষধ ও খামারে ব্যবহ্নত রাসায়নিক পদার্থের মান নির্ধারনে) নিয়মিত পরিক্ষন ও কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। চিংড়ি সমৃদ্ধ জেলা সমুহে চিংড়ি উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরে জনবল বৃদ্ধিতে আলাদা জনবল কাঠামোর ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো তথা অধিক ফলনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। চিংড়ির রোগ নির্নয় ও নিরাময়ে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ক্রেতার আস্তা তৈরিতে রপ্তানিকারককে অধিক দায়িত্বশীল হতে হবে এবং চিংড়ির ভ্যালু চেইনের সকল স্তরে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারকদের সংগঠন ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম জহির বলেন, এক সময় খুলনাঞ্চলে ৬৩ টি প্রক্রিয়াজাতকরন কোম্পানি ছিল।

উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় নানা কারনে ৩৩ টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকের সুদ ও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার পরও কিছু কোম্পানি টিকে আছে। হিমায়িত চিংড়ি শিল্প সম্প্রতি আবারো কিছুটা ঘুড়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, চিংড়ি শিল্পকে চাঙ্গা করতে হলে সরকারিভাবে রপ্তানিকারকদের ভর্তুকি দিতে হবে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য উৎপাদন খরচে ভর্তুকি দিতে হবে। চিংড়ি রপ্তানিকারকদের অভিমত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে চিংড়ি শিল্প। ইউরোপের দেশ গুলোতে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের চাহিদা এবং মুল্য কমে গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা ও মুল্য কমে যাওয়ায় রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়েছে। বিদেশে ক্রেতারা সময়মত মুল্য পরিশোধও করেন না। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেকেই চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রেখেছিলেন। পাশাপাশি ভাইরাসের কারনেও খুলনাঞ্চলে চিংড়ি উৎপাদন কমেছে।

তবে চিংড়ি রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় আশা করা যাচ্ছে উৎপাদনও বাড়বে। খুলনার চিংড়ি রপ্তানিকারকরা মনে করেন, করোনা পরিস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের ভেতরে আবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে সম্প্রতি কয়েকবছর চিংড়ি শিল্পে অচল অবস্থা তৈরি হয়েছিল। একেরপর এক শিপমেন্ট বাতিল হওয়ায় রপ্তানিকারকরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েন। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকমাস চিংড়ি রপ্তানি কিছুটা ঘুড়ে দাড়িয়েছে। এতে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com