গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের তহসিল ক্যাম্পে জমির মালিক ও ক্রেতাদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হেলাল নামে এক ব্যক্তি এই অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হেলাল জমির বিভিন্ন অজুহাত ও শ্রেণীগত জটিলতা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ওই অফিসটি হাজ্বী আব্দুল খালেক সাহেবের বাড়ি, নতুন বাজার রোড, কোনাবাড়ি, গাজীপুর-এ অবস্থিত।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত যেকোনো কাজে গেলেই হেলাল বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করেন। নামজারি, দখলপত্র বা জমির হদিস সংক্রান্ত কাজে তিনি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখেন।
একাধীক ভুক্তভোগীদের মতে, সরকারি নির্ধারিত ফি খুবই সামান্য হলেও এই অসাধু চক্রটি প্রতিটি কাজের জন্য কয়েক হাজার থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, “আমরা সরল বিশ্বাসে অফিসে গেলে উল্টো হয়রানি হয়। হেলাল আমাদের জিম্মি করে নানান অজুহাত দেখায়। টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না।”
এর আগেও দেশের বিভিন্ন সেটেলমেন্ট ও ভূমি অফিসে দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যের ঘটনা উঠে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এমন চক্রের সদস্যদের আটকও করেছে।
এ ব্যাপারে গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো এবং কোনো অসাধু কার্যক্রম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অবৈধ অর্থ দাবি করলে তাড়াতাড়ি অফিসে জানানোর অনুরোধ করছি।”
তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতেও ভয় পান এবং প্রতিবাদী হলেও হয়রানির শিকার হন।
স্থানীয় সুধীজন ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং কোনো অবস্থাতেই জিম্মি হয়ে অবৈধ অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ অর্থ দাবি করলে তা রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।