সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে পুলিশ নিহতের সংখ্যা ৮ জন এবং আহতের সংখ্যা ৯ জন বলে জানিয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা ৯ জনে পৌঁছেছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল প্রায় সোয়া ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনের শুরুতেই ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে মুহূর্তেই থেমে যায় অন্তত নয়টি প্রাণ। কেউ কর্মস্থলের উদ্দেশে, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ প্রিয়জনের কাছে ফিরছিলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের সেই বিভীষিকাময় সংঘর্ষে সবকিছু বদলে যায়। স্বজন হারানোর আহাজারি, আহতদের আর্তনাদ এবং রক্তাক্ত দৃশ্যে ভারী হয়ে ওঠে পুরো কাশিকাপন এলাকা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০) ও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাফি মিয়াসহ কয়েকজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সী কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট নগরের সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সর্বশেষ আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়।
এ ঘটনায় নুরুন নাহার (২৪), মো. মফিজ মিয়া (২৯), ফারুক মিয়া (২৯), মুক্তার (২৯), জাহাঙ্গীর (৩০), আফরুজা (২৯), আফজাল, বাবুলসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা জানান, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিহতদের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।