আশুলিয়া থানার কাইচা বাড়ি এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ গ্যাস।
এতে করে বৈধ গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ থেকে হচ্ছে বঞ্চিত।
রবিবার (২৪ আগস্ট) সরজমিনে গেলে দেখা যায় প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িতে অবৈধ ভাবে দেওয়া হয়েছে গ্যাস সংযোগ।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হাজীর আব্দুল মালেকের নিয়ন্ত্রণে, আতাউর রহমানে নেতৃত্বে ইদ্রিস আলী মনির ৩ ও মোশারফ হোসেন, নুর মোহাম্মদের বাড়িসহ একাধিক ব্যক্তির বাড়িতে জ্বলছে অবৈধ গ্যাস।
তবে একাধিক বার উক্ত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও আবারও সংযোগ দিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে সরকারি সম্পদ।
এতে করে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অবৈধ গ্যাস সংযোগের ফলে গ্যাস সংকটে বৈধ গ্রাহকেরা।
এ বিষয়ে আবু বক্কর সভাপতি ৮ নং ওয়ার্ড ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি বলেন, “এলাকায় ব্যাপক হারে দেওয়া হয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ।
এই গ্যাস সংযোগ গুলো আওয়ামী সরকার থাকাকালীন সময়ে দেওয়া হয়েছে।
তখন আওয়ামী লীগ হলেও তারাই এখন নব্য বিএনপি সেজে অবৈধ ভাবে সরকারি গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিএনপি’র বদনাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা ।
আর এই অবৈধ সংযোগের ফলে আমরা বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের অভাবে ভুগছি। আমরা নিয়মিত বিল পরিষদ করেও নির্দিষ্ট সময়ে পাচ্ছি না পর্যাপ গ্যাস।
অবৈধ এই সংযোগগুলোর বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার মৌখিক ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, এরপরও কোন ব্যবস্থা নেননি তারা।
তবে এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানা যায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আঃ মালেক হাজি এই সংযোগ গুলো দিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে হাজি আঃ মালেকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,
এব্যাপারে তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনের ব্যবস্থাপক ও প্রকৌশলী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীনের কাছে একাধিকবার প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সাথে তিতাস গ্যাসের অসাধু কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সাথে হয়তো সম্পর্ক রয়েছে।
তানা হলে অভিযোগ দেওয়ার পরও তারা এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না আর এই সুযোগে অসাধু ব্যক্তিরা মাসের পর মাস অবৈধ ভাবে চালাচ্ছে গ্যাস।
তাদের দাবি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা সহ বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাভার অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধ গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী ।