আমি সারাজীবন ভার্জিন ছিলাম”এমন মন্তব্য করে হইচই ফেলে দিয়েছেন আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী রাজনীতিক মেঘনা আলম। রবিবার (২৩ আগস্ট) এই অভিনেত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন; যা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।

মেঘনা আলম তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লেখেন, ভাই, আমি সারাজীবন ছিলাম ভার্জিন। মদ সিগারেট কিছুর অভ্যাস নেই, টাকা-পয়সার বিষয়েও ভয়ংকর দানশীল, যতটুকু পৈতৃক সম্পদ আছে, তাই ব্যবহার করি না। হুমকি দিয়ে লাভ নেই কোনো, আমি একটু খারাপ খারাপের সাথে!
মেঘনা আলম কেন এমন মন্তব্য করেছেন, তা তার স্ট্যাটাসের শেষাংসে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কারো হুমকির জবাবে এভাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মেঘনা। তবে এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

মেঘনা আলম লেখেন, ইলিয়াস যদি এক বাপের সন্তান হস, যদি তোর মায়ের দুধ বেগানা পুরুষ না খেয়ে থাকে, মেঘনা আলমের সাথে চাকরিচ্যুত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার ভিডিও আপলোড কর! না হলে, বাংলা এডিশন ও তোর সব পেজ থেকে ভুয়া পোস্ট রিমুভ কর।”
মেঘনা আলমের স্ট্যাটাসে এ পর্যন্ত রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজারের বেশি। মন্তব্য পড়েছে ২ হাজারের অধিক। অগ্নিমূর্তি ধারণ করা মেঘনার ভূয়সী প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। শাহজালাল নামে একজন লেখেন, আপু, তুমি হচ্ছো মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে দেয়া এক অদ্যম ছুঁটে চলা অগ্নিকন্যা! আসলাম লেখেন, বর্তমানে আপনি আমার পছন্দের একজন পলিটিক্যাল পার্সন।” এমন অনেক মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে। তবে মেঘনার ‘ভার্জিন’ শব্দটি নিয়ে অনেকে তাকে কটাক্ষও করেছেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা মন্তব্য করে আলোচিত হয়েছেন মেঘনা। গত বছরও বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। মেঘনা বলেছিলেন, আমি আল-কোরআনের উপর হাত রেখে ঘোষণা করেছি, আমার জীবনে আমি কখনো কারো সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করিনি, এমনকি ঈসার সাথেও নয়। আমাকে চরিত্রহীন বা লম্পট প্রমাণের যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধ হোক।

নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেঘনা। তার ভাষায়, আমাদের সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল করে। দাড়ি-জুব্বা-বোরখা দেখলেই মনে করে সেটিই পবিত্রতার প্রতীক। আর কোনো নারী খোলামেলা পোশাক পরলেই ধরে নেয় সে সহজলভ্য। কিন্তু বাহ্যিক চেহারা দিয়ে অন্তর বোঝা যায় না।
নিজেকে কুমারি দাবি করে মেঘনা আলম বলেছিলেন, আমি কোরআনের কসম খেয়ে বলছি, আমি কখনো সচেতন অবস্থায় কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করিনি। আজ পর্যন্ত আমি কুমারি। শুধু ক্ষমতাধর কারো সঙ্গে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কারণে আমাকে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। ইতিহাসে বারবার নারীকেই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়, অথচ পুরুষ থেকে যায় প্রশ্নহীন, নিরাপদ ও অব্যাহতি-প্রাপ্ত।

বলে রাখা ভালো, অভিনয়ের পাশাপাশি মেঘনা আলম পরিবেশ আন্দোলন ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যুতে সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে একজন রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মেঘনা আলম