কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। বন্ধুর যে কমিউনিটিতে থাকা, সেখানকার মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে নিয়ে আমি সাংবাদিক মহিউদ্দিন—রাত ১১টায় রওয়ানা হলাম পদ্মাপাড়ের টানে।
রাতে ঢাকার পথ পেরিয়ে যখন পদ্মার কাছে পৌঁছালাম, তখন মনে হলো ব্যস্ত জীবনের সব ক্লান্তি যেন কোথায় হারিয়ে গেল। চারপাশে নদীর বাতাস, পদ্মার ঢেউ আর ভ্রমণপিয়াসু মানুষের আনাগোনা—রাত হলেও মনে হচ্ছিল যেন সেখানে দিনের মতোই প্রাণচাঞ্চল্য। সেখানে গিয়ে নিজের হাতে টাটকা ইলিশ মাছ কেনা, তারপর নিজের হাতেই ইলিশ ভাজা এবং সবাই মিলে বসে সেই ইলিশের স্বাদ নেওয়া—আহা! সাধারণ একটা রাতের খাবারও যে এত আনন্দের হতে পারে, তা হয়তো এই ভ্রমণে না এলে বুঝতাম না।
চারপাশে পদ্মার ঢেউয়ের শব্দ। নদীর শীতল বাতাস শরীর-মন জুড়িয়ে দিচ্ছে। আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলোকিত পদ্মা সেতু—তার নান্দনিক আলোকসজ্জা যেন রাতের অন্ধকারে এক অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে পদ্মার ঢেউ, অন্যদিকে আলোকিত পদ্মা সেতু—মনে হচ্ছিল প্রকৃতি আর মানুষের সৃষ্টির এক অসাধারণ মিলনমেলা। ভ্রমণপিয়াসু মানুষগুলোর হাসি, গল্প, আড্ডা আর আনন্দে কখন যে সময় চলে গেল, বুঝতেই পারিনি। সেখানে গিয়ে সত্যিই মনে হলো—ভ্রমণের জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন শুধু কিছু ভালো মানুষ আর হঠাৎ নেওয়া একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত। খাওয়া-দাওয়া, ফটোসেশন শেষে এবার বাসা ফেরার পালা। রাত ২টা ৩০ মিনিট এবার যার যার গন্তব্যে জন্য সবার প্রস্তুতি। যাওয়ার সময়ই রাত ৩:৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমানে একটু যাত্রা বিরতী এখানে ফটোসেশন করা কিন্তু মাথায় একটা চিন্তা ছিল ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরব।
যেমন কথা, তেমন কাজ। রাতের আনন্দ-আড্ডা শেষ করে সবাই যার যার গন্তব্যের পথে রওয়ানা দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সঠিক সময়েই সবাই নিজ নিজ বাসায় ফিরে পৌঁছালাম। সারারাতের ক্লান্তি শরীরে থাকলেও মনে ছিল অন্যরকম প্রশান্তি। পদ্মার ঢেউ, ইলিশের স্বাদ, বন্ধুদের আড্ডা, রাতের নির্মল বাতাস আর আলোকিত পদ্মা সেতুর সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—সব মিলিয়ে রাতটি হয়ে থাকল জীবনের সুন্দর কিছু স্মৃতির একটি। বাসায় ফিরে সবার মুখে যেন একই অনুভূতি— “আলহামদুলিল্লাহ, সুন্দর একটি রাত কাটল।”
তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমের দেশে। কিছু ভ্রমণ শুধু কোনো জায়গা দেখার জন্য হয়, আর কিছু ভ্রমণ হয়ে যায় মানুষ, প্রকৃতি, বন্ধুত্ব ও সুন্দর স্মৃতি তৈরির গল্প। এই রাতের পদ্মাপাড়ের ভ্রমণটি ছিল ঠিক তেমনই একটি গল্প।
আবারও যদি হঠাৎ কোনো বন্ধু পাভেল বলে— “চলেন, আজ একটু ঘুরে আসি…” তাহলে হয়তো আবারও বলে উঠব—চলেন! পদ্মাপাড় ডাকছে…সবশেষে বন্ধুর জন্য দোয়া রহিল। সুন্দর একটা ভ্রমণ ও সুন্দর টিপস দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
শিমুলিয়া ফেরিঘাট, মুন্সীগঞ্জ থেকে