গত ০৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকালে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানাধীন ছৈলাবুনিয়া এলাকায় মাদক মামলার আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজীর নামে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হওয়ায় আসামী ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ আইনজীবী মোঃ সামিউল আলম ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভিকটিমদ্বয়কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি)‘র একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। অবশেষে ইং-১৫-০৮-২০২৬ তারিখ দুপুরের দিকে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে মূল আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজী(৪২) কে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীঃ
১। মোঃ জাকির ফরাজী(৪২), থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী।
বাদীর মাধ্যমে জানা যায়, আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজী একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সহিত যুক্ত। আসামীর নামে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গত কয়েক মাস পূর্বে আসামী জাকির হোসেনের নামে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়। আসামী জাকির হোসেন উক্ত মাদক মামলার আইনজীবী নিযুক্ত করেন ভিকটিম এ্যাডভোকেট মোঃ সামিউল আলমকে। উক্ত মামলায় আসামী নিয়মিত বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা না দিয়ে গড় হাজির থাকেন। গত ইং-০৯-০৬-২০২৬ তারিখ উক্ত মাদক মামলার ধার্য্য তারিখ থাকলেও আসামী বিজ্ঞ আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আসামীর পক্ষে আইনজীবী মোঃ সামিউল আলম সময়ের আবেদন দাখিল করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত সময়ের আবেদন না মঞ্জুর করে আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজীর নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। আসামী জাকির হোসেন তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যুর বিষয়টি জানতে পেয়ে আইনজীবীর উপর ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায় ঘটনার দিন ইং-০৯-০৮-২০২৬ তারিখ বিকালে এ্যাডভোকেট মোঃ সামিউল আলম মির্জাগঞ্জ থানাধীন ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থানের কথা জানতে পেয়ে আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজী অজ্ঞতনামা আসামীদের নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে এসে তাদের সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম মোঃ সামিউল আলমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ভিকটিম সামিউল আলমকে বাঁচাতে তার স্ত্রী মোসাঃ শাহনাজ পারভীন(৩৫) আগাইয়া আসলে আসামীরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। ভিকটিম মোঃ সামিউল আলম এবং মোসাঃ শাহনাজ পারভন দ্বয়ের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসতে দেখে আসামীরা ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশালে পাঠানো হয়। উক্ত ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল হতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক তা পর্যালোচনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উল্লেখিত আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজীকে ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমান পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে আসামী এক জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার অবস্থান পরিবর্তন করে। যার কারনে আসামীদের অবস্থান সনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। এক পর্যায় ১৫-০৮-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানার একাধিক চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে মূল আসামী মোঃ জাকির হোসেন ফরাজীকে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম।পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে অন্য কোন ব্যক্তি বা সহায়তাকারী সহ অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা নিরূপণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যে বা যারাই এই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।