এ মাসের প্রথম থেকে ধারাবাহিক অতি বৃষ্টিতে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আট হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের আউস থেকে শুরু করে নানা ধরনের সবজি মাঠেই পচেছে। এসব জেলায় ৩৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমান ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হচ্ছে, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল। এমাসের ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় ৫৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার, বাগেরহাটে ৪০ দশমিক ৪১ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৪১ দশমিক ৮২ এবং নড়াইলে ২৪ দশমিক ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা গুলো হচ্ছে তেরখাদা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, ফুলতলা, দিঘলিয়া, দাকোপ, বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরনখোলা, চিতলমারী, নড়াইল সদর, লোহাগড়া, কালিয়া ও সাতক্ষীরা জেলা সদর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ মাসে আউস, আমন বীজতলা, তরমুজ, কাঁচামরিচ, পান, ঢেরস, পুঁইশাক, ঝিঙে, উচ্ছে, বেগুন, ও করোলা সবজি ক্ষেতেই পঁচেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এসব জেলায় ১৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফসলের মধ্যে ৩৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতে পঁচে যাওয়া ফসলের মুল্য ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগেরহাট জেলায়। এখানে প্রায় চার হাজার মহাজন চাষী, বর্গা, প্রান্তিক চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রাবনের শুরুতে অতিবৃষ্টির ফলে দিনমুজুরদের পরিশ্রমের মজুরিও বেড়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষ সবজির দাম ১৫-২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা থেকে সবজিবাহী ভ্যান ও ট্রলির ভাড়ার পরিমান দেড়গুন বেড়েছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বল্প মুল্য বেগুন, পটলসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করেছে। অতিবৃষ্টির কারনে শীতের সীম, টমেটো বাজারে আসতে বিলম্ব হবে। নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আরিফুর রহমান অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, জেলায় আমনের বীজতলা, আউস, গ্রীস্মকালীন সবজি ও পান ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ জেলায় ২ কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়। লেকসান গুনতে হয়েছে ২ হাজার ৪৮৬ জন কৃষককে। সাতক্ষীরা পৌরসভার কামাল নগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙী, বদ্দীপুর কলোনী, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজার বাগান পুরাতন সাতক্ষীরা সহ সদর উপজেলার বিস্তৃর্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ। ডুবে যাওয়া ঘরবাড়িতে রান্না করা দুস্কর। সাপ ও পোকা মাকড়ের উপদ্রবে আতংকিত জনসাধারণ। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়। খুলনা জেলার ও আশপাশের উপজেলা গুলোতে অধিকাংশ জায়গা নিন্মাঞ্চল হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে হাটু সমান পানি।তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও ক্ষেত। অতিবৃষ্টিতে খুলনা সদরের রয়েলমোড়, পিটিআই মোড়, গল্লামারী, রুপসামোড়, খালিশপুর হাউজিং বাজার এন – লাইন, মুজগুন্নী সড়ক সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী সহ পথচারীদের হাটু সমান পানিতে চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্ষায় বিভিন্ন স্থান ঘুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করলেও আশু ফলাফল মিলছে না। কারন অতিবৃষ্টি ও পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা যথাযথ না থাকায় জলমগ্নতা সৃষ্টি হয়েছে