জাহিদ মিয়া
রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত বিষয়ে( বিআরটিএ) এডি মো: জিয়াউর রহমান জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন আমাদের ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তা ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলতে পারছি না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও পরীক্ষার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও অনেক প্রার্থী কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অন্যদিকে একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা আদায় করা হচ্ছে, যা সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রবেশের পর থেকেই দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন অজুহাতে বিভ্রান্ত করা হয় এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ অর্থ দিতে রাজি না হলে তার ফাইল বা আবেদন প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার দিন অনেক প্রার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে আস্থা হারাচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য চালক তৈরির বিকল্প নেই। আর সেই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান। সেখানে যদি অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এদিকে, অভিযোগের তীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকেও উঠেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে,অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
তারা বলেন, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান থাকতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিআরটিএকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এবং সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া সেবা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরী ।