স্বপ্নীল চৌধুরী জাবেদ, রামগঞ্জ লক্ষ্মীপুর:আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১০নং ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ নূরনবী মুক্তা। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।
নূরনবী মুক্তার অনুসারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের ভাষ্য, নূরনবী মোক্তার একজন ভদ্র, বিনয়ী ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
তারা আরও জানান, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় নূরনবী মোক্তার একাধিক রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন। তাদের দাবি, বিস্ফোরক, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল। তবে এসব মামলার অভিযোগ ও আইনি অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের রায়ের তথ্য প্রতিবেদনে যাচাই করা হয়নি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাজার ইসলাম মজুর জানাজা শেষে নূরনবী মোক্তারকে ডিবি পুলিশ আটক করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। ওই মামলায় প্রায় আড়াই মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে তার অনুসারীরা জানান।
নূরনবী মুক্তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রজীবন থেকে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি উপজেলা যুবদলের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান তার অনুসারীরা। এছাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন সময়ে সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও তারা জানান।
তার অনুসারীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয়ভাবে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে দল তাকে মূল্যায়ন করবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
নূরনবী মুক্তার বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকার কারণে জেল-জুলুম, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। দলীয়ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা কখনো পাইনি। আমি আশা করি, দল আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্যাগ বিবেচনা করে চেয়ারম্যান পদে আমাকে মূল্যায়ন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখব। ইনশাআল্লাহ, দলের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”