খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দীর্ঘ সুত্রিতায় জড়িত ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনোও কোন ব্যবস্থা নেইনি খুলনা উন্নয়ন কতৃপক্ষ ( কেডিএ)। কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এদিকে কর্মদিবসে সবাইকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখাগেছে। বিষয়টি নিয়ে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনাও ধীরগতিতে এগোচ্ছেন বলে দাবি করছেন একাধিক সংশ্লিষ্ট মহল। সুত্র জানায়, কেডিএর বাস্তবায়নাধীন শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরন ও উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসুত্রিতার কারন ও অনিয়ম খুজে বের করতে গত ৯ জুন নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঔই মাসেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত টিম খুলনা সফর করেন। মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে কেডিএ চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত ৩১ আগষ্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। প্রতিবেদনে কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসুত্রিতা, আর্থিক অনিয়ম, সমীক্ষা ব্যতিরেকে ডিপিপি প্রনয়ন এবং প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দীর্ঘ দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার প্রমান পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গনপুর্ত মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কেডিএর অধিনে থাকা ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এবং কেডিএতে প্রেষনে আসা তিন উপ- সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান এ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হলেন, কেডিএর সদস্য ( উন্নয়ন) এস এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সচিব মোঃ বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য ( প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোসেন। কেডিএর কর্মকর্তারা হলেন, তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এটিএম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ( প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরমান হোসেন, উপ- প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাব রক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাব রক্ষক ( পুর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাব রক্ষন অফিসার সাইদুল হক ও অর্থ ও হিসাব রক্ষন অফিসার এম এম হোসেন আলী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, দেশে কোন প্রকল্পে দীর্ঘসুত্রিতার কারনে একসঙ্গে এতো কর্মকর্তার শাস্তির ঘটনা আগে ঘটেনি। অভিযুক্তদের মধ্যে উর্ধবতন প্রায় সব কর্মকর্তা থাকায় তাদের বিপক্ষে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া তারাও মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় নেতাদের ” ম্যানেজ করার চেষ্ট করছেন। অল্পতেই বিষয়টি নিস্পত্তি হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। খুলনার নাগরিক নেতারা বলছেন, শিপইয়ার্ড সড়কে ধীরগতির কারনে যে পরিমান আর্থিক ক্ষতি ও দুর্ভোগ হয়েছে – টাকার অংকে এর মুল্যে কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি। এই প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতরা যদি শাস্তি না পায় – কেডিএতে দুর্নীতি কখোনও বন্ধ হবে না। এখন কেডিএর চেয়ারম্যান কি করবেন – সেটাই দেখার বিষয়। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।