স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আকস্মিক পরিদর্শনের পর কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ড এবং লেবার ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ড এবং লেবার ওয়ার্ডে এখন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোর বেড, মেঝে, করিডোর এবং রোগীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলে ওয়ার্ডগুলোতে ফিরেছে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
একসময় এসব ওয়ার্ডের বাথরুমগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর। দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্নতা এবং নষ্ট স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বর্তমানে বাথরুমগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের নির্দেশনা এবং হাসপাতাল প্রশাসনের সার্বিক তদারকিতে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইনচার্জ, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ময়না বেগম (২৪) বলেন, “আগে হাসপাতালে এসে অনেক কষ্ট করতে হতো। ওয়ার্ডের পরিবেশ ভালো ছিল না। এবার এসে দেখছি সবকিছু অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। চিকিৎসক ও নার্সরাও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পেরে এখন অনেক স্বস্তি লাগছে।”
মেহেরপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা খাতুনের স্বামী বলেন, “আমরা এর আগেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। তখন ওয়ার্ড ও বাথরুমের পরিবেশ ছিল খুবই নোংরা, দুর্গন্ধে সেখানে থাকা কষ্টকর ছিল। এবার এসে দেখলাম পুরো পরিবেশই বদলে গেছে। ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, বাথরুমও ব্যবহার উপযোগী। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন। এমন পরিবেশে রোগী ও স্বজনদেরও অনেক স্বস্তি লাগে। আমরা চাই এই ভালো পরিবেশ ও সেবার মান সব সময় বজায় থাকুক।”
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর এবং অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের নির্দেশনায় হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে যে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা ধরে রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী, স্বজন এবং দর্শনার্থীদেরও সচেতন সহযোগিতা প্রয়োজন।”
মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ নাজমুন নাহার বলেন, “রোগীরা যেন একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের নির্দেশনায় এবং হাসপাতাল প্রশাসনের সার্বিক তদারকিতে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেডিসিন, সার্জারি ও লেবার ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও রোগীদের আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”