পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস ও বকেয়া পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা বলেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অন্তত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে নজিরবিহীন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ থেকে ৩৩ বছর ধরে কর্মরত অনেক সংবাদকর্মীকেও ‘মবকারী’ আখ্যা দিয়ে একযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এমন সিদ্ধান্ত শুধু শ্রম আইন ও ওয়েজবোর্ড পরিপন্থী নয়, বরং সংবাদকর্মীদের মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত। তারা অবিলম্বে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ এবং চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার চাকরিচ্যুত সংবাদকর্মীরা জনকণ্ঠ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে কয়েকজন সাংবাদিক আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিএফইউজে ও ডিইউজে দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ‘হামলা’ বা ‘মব’ তত্ত্ব দাঁড় করানো অনভিপ্রেত। সংগঠন দুটির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জানানো হয়।
এদিকে, জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষের এইচআর ও অ্যাডমিন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সোহেলের সঙ্গে বৈঠকে ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো সাংবাদিকরা কোনো অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল থেকে দূরে রাখা পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী। দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএফইউজে ও ডিইউজে।