1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
রাজস্থলী ৪টি পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষকরা মাথা উঁচু করে দাড়াতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা এগোতে পারব না : বিসিবি পরিচালক ‎বকশীগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ আত্রাই ও রানীনগরে অত্র এলাকার সংসদ সদস্যের নিজস্ব অর্থ য়ানে দুটি পুলিশ বক্সের উদ্বোধন হালুয়াঘাটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ মিরপুরে পরিবহন মালিকদের সাপ্তাহিক সভা ,নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে যাত্রীসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষার আহ্বানে উজিরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ভৈরবে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি

চিনি নয়, গিলছে কোটি কোটি টাকা-ধুঁকছে রাজশাহী সুগার মিল

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ০ দেখেছেন

একসময় উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল রাজশাহী সুগার মিল। স্থানীয় আখচাষিদের উৎপাদিত আখে সচল থাকত মিলের চাকা, আর সেই মিলকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল হাজারো মানুষের জীবিকা। তবে সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন টিকে থাকার সংকটে। আখের ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাবে ধারাবাহিক লোকসানে চলছে মিলটি। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধান জানা যায়, রাজশাহী সুগার মিলের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬২ সালে এবং ১৯৬৫ সালে তা সম্পন্ন হয়। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে শুরু হয় চিনির উৎপাদন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। জেলার পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নে অবস্থিত এই মিল একসময় উত্তরাঞ্চলের আখচাষ ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল।

কিন্তু বর্তমানে মিলটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত পাঁচ বছরে মিল চালু ছিল মাত্র ১৭৩ দিন। এই সময়ের মধ্যে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৪ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী, চালু থাকা প্রতিদিনে গড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে মিল চালু ছিল ১৯ দিন। ওই বছর লোকসান হয় ৬৩ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে ২১ দিন চালিয়ে একই পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ দিনে লোকসান দাঁড়ায় ৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ক্ষতি হয় ৬৯ কোটি টাকা এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

রাজশাহী সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) জামাল হোসেন বলেন, “আমাদের মিলে তিন মাস চালাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন আখ প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই পরিমাণ আখ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক চাষি বেশি দামে গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করছেন। ফলে আমরা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “মিলটির বয়স প্রায় ৬৫ বছর। পুরোনো যন্ত্রপাতি সচল রাখতে মেরামত ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এসব কারণেই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।”

সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে মিলটিতে মোট প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন চিনি। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৬৫ মেট্রিক টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৫৬ মেট্রিক টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৩১৮ মেট্রিক টন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ১২৫ টাকায়। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সুগার মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক (ভান্ডার) খন্দকার আব্দুল মতিন বলেন, “বর্তমানে কৃষকেরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কারণ এক বছরে অন্য ফসলে কয়েকবার লাভ পাওয়া গেলেও আখে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে চাষিরা বিকল্প লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।”

তিনি বলেন, “যদি আবার এই অঞ্চলে আখের আবাদ বাড়ানো যায় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তাহলে মিলটির সুদিন ফিরতে পারে।”

তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মিলে আখ মাড়াই হয়েছে ৬০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। এর আগের বছর ছিল ৭০ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৪৪ মেট্রিক টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৩ মেট্রিক টন আখ মাড়াই হয়। যা প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশে একসময় ১৬টি সুগার মিল চালু থাকলেও ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালে সরকার ছয়টি মিল বন্ধ ঘোষণা করে। সে সময় রাজশাহী সুগার মিল নিয়েও বন্ধের গুঞ্জন ওঠে। এতে চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আখচাষে আগ্রহ কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মিলটির উৎপাদনে।

বর্তমানে ১ হাজার ২৪৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন মাত্র ৩৫ জন। এছাড়া স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে কর্মচারী-শ্রমিক আছেন প্রায় ৫৪৫ জন। দক্ষ জনবলের ঘাটতিও উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, “দক্ষ শ্রমিক ছাড়া চিনি উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের এখানে প্যানম্যান, ফিটার, মেকানিকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। মিলটি সারা বছর চালু না থাকায় দক্ষ কর্মীরাও অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।”

২২৯ দশমিক ৫৭৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই মিলের মধ্যে প্রায় ১০০ একরে রয়েছে আবাসিক কলোনি, স্কুল, মসজিদ, মেডিকেল সেন্টার, কারখানা, গেস্ট হাউজ, প্রশাসনিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা। এছাড়া ১১০ একরে পরীক্ষামূলক খামার এবং প্রায় ২০ একরে রয়েছে সাব-জোন অফিস ও আখ ক্রয় কেন্দ্র।

চিনিকল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আখচাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া ছাড়া মিলকে লাভজনক করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি উপজাত পণ্য উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, “সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই মিলটি চলছে। আমাদের এই অঞ্চলে আখের উৎপাদন কমে গেছে। চাষিরা এখন বেশি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, চিনির দাম সেভাবে বাড়ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.