নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের কাছারীপাড়া এলাকায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।মামলাটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
গত রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টায় আইসঢাল গ্রামের কাছারীপাড়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন,মামলার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামের পুরুষরা টানা সাতদিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহাবুল, আব্দুল জলিল,ডা.লতিবুর রহমান,আব্দুল জব্বার, মজিবর রহমান,মো. বাবু,আশরাফুল,রেনুকা,মজিয়া খাতুন ও মুন্নী বেগমসহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো.মুকুল মিয়া।তিনি জানান, মরহুম জাহান উদ্দিন সরকার জীবিত থাকাকালে তার তৃতীয় স্ত্রী মালেকা খাতুনকে দেনমোহর হিসেবে আইসঢাল মৌজার ৯৮ নম্বর খতিয়ানের এসএ ১০৬০ দাগে ৭৪ শতক জমি ১৯৭০ সালে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেন।পরবর্তীতে মালেকা খাতুন দীর্ঘদিন ওই জমি ভোগদখল করেন এবং বিএস রেকর্ডেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন,মালেকা খাতুনের মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে এজাবুল হক উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হন।সম্প্রতি ওই জমির ইরি-বোরো ধান কাটতে গেলে ভিন্ন গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি মামুন সরকার ও তার সহযোগীরা বাধা দেন এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরদিন ১২ মে মামুন সরকার বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানা-এ মামলা দায়ের করেন।মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০ থেকে ৪২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-এজাবুল হক (৫৮),রমজান আলী(৪০),সাজু মিয়া(৩৭),লাজু মিয়া(৩৫),আশরাফুল(৪০),এসরাফুল (৩৮),মো.জিসান (২২) ও মো.মুকুল মিয়া (৩২)।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন সরকার বলেন,আমি কাউকে ভয়ভীতি দেখাইনি।বরং তারা আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার ধান কেটে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন,মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে,এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরীহ গ্রামবাসীদের হয়রানি বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।