শেরপুর জেলার সদর থানা ধীন, বুড়াবাড়ি, জঙ্গল দ্বীরচর গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুল হান্নান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর সময় টাকার সংকুলন না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার জোদ্দার, উকিল মিয়ার নিকট থেকে, মাসিক ৫০০০ টাকা সুদে পঞ্চাশ হাজার টাকা লোন নেন ।
ছেলে বিদেশে যাওয়ার পর পাঠানো টাকা থেকে, উকিল মিয়া থেকে সুদে নেওয়া ৫০,০০০ (পঞ্চাশ
হাজার ) টাকা ফেরত দিয়ে এক বছরে অবশিষ্ট ৬০,০০০ টাকা সুদ পরিশোধ করেন বলে জানান হান্নান মিয়ার স্ত্রী মনিজা।
গত ১২ ইএপ্রিল, হান্নান মিয়া ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন তাদের আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেলে, তাদের অনুপস্থিতিতে ফাকা বাড়িতে ঢুকে, সুদখোর উকিল মিয়া, ওয়াজেদ মিয়া পিতা কামরুল ও ওয়াজিদ মিয়ার স্ত্রীলিপি সহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মিলে তার ঘরে থাকা সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানা যায় প্রকাশ্য দিবালোকে ।
লুটে নেওয়া মালামালের ভিডিও ধারণ করে হান্নান মিয়ার স্ত্রীর মোবাইলে পাঠিয়ে বলেন আজকে মালামাল নিয়ে গেলাম আগামী ২/১দিন পরে ঘর ভেঙে নিয়ে যাব ।
ভিডিওর মাধ্যমে ঘটনার সংবাদ জানতে পেরে , নির্যাতিতা পরিবারের মনিজা বেগম “সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ” শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি জনাব আজাদ তালুকদার কে বিষয়টি জানালে, তিনি ওয়াজেদ মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন এবং বেআইনি কর্মকান্ডের জন্য আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান ।
ওয়াজেদ আলী আজাদ তালুকদার কে হুমকি দিয়ে বলেন পুলিশ নিয়ে আসলে পুলিশ আমার সুদের টাকা দিয়ে যেতে হবে ।
চর এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই সুদখোর চক্রের কষাঘাতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে বলে সরজমিনে গিয়ে জানা যায় ।
বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃপক্ষ শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন অভিযোগ পেলে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
সেই প্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল শেরপুর সদর থানায় আব্দুল হান্নান এর স্ত্রী মনি্জা বেগম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ।
অভিযোগটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, শেরপুর সদর থানায় কর্মরত এসআই সাইফুল ইসলামকে হাওলা করেন অফিসার ইনচার্জ শেরপুর সদর থানা ।
নিরীহ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা থানা পুলিশ সহ মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এলাকায় এ ধরনের অত্যাচার থেকে এলাকাবাসীকে রেহাই দিবে ।
ব্যাংক বীমা এবং সরকার অনুমোদিত মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সমিতি বা এনজিও ছাড়া সুধী প্রথায় টাকা লাগানো শতভাগ বেআইনি বলে একজন ব্যাংকার জানান । বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী ।