অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, “পপি হোটেল” নামে পরিচিত এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক জনাব আব্দুল খালেক। তিনি মূলত বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় লোকেশনে হোটেল স্থাপন করে তা ভাড়ায় দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল খালেক বলেন, “আমি সাধারণত হোটেল তৈরি করে ভাড়ায় দেই। বর্তমানে যিনি পরিচালনা করছেন, তিনি নতুন ভাড়াটিয়া। সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করতে না পারাটা তার ব্যর্থতা। এসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে অল্প কিছু ঘুষ বিনিময় দফারফা করা যায় সামাল দিতে হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিচালক পরিস্থিতি মোকাবেলায় অভিজ্ঞতার অভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ব্যবসা পরিচালনার সময় ঘটে যাওয়া ঘটনার দায়ভার পরিচালকেরই বহন করা উচিত।
অন্যদিকে, হোটেলের বর্তমান পরিচালক মাসুদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সম্পূর্ণ ডেকোরেশন ও চালু অবস্থায় ব্যবসা বুঝে নিয়েছি। সততা ও নিষ্ঠার সাথে ২৪ ঘণ্টা হোটেল পরিচালনা করছি। আমার সময়ে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলাম না। তাহলে কেন আমাকে হয়রানির শিকার হতে হবে?”
তিনি আরও বলেন, “আগে হোটেল ১২ ঘণ্টা চললেও বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় আমি সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ মাস ধরে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি আইপিএস এর পরিত্যক্ত একটি সার্ভিস লাইন কে অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করেন।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে দুই দিনের আলোচনা ও তদবিরের পর প্রায় ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে পুনরায় সংযোগ প্রদান করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।