পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রামভদ্রা গ্রামের এক কোণে আজও নিঃশব্দে বেঁচে আছে এক হৃদয়বিদারক গল্প ,একটি পরিবারের না বলা কান্না, যাকে দেখার যেন কেউ নেই, শোনারও কেউ নেই।
সেই আর্তনাদের নাম আঃ রহমান ফকির। মৃত আঃ গনি ফকিরের ছেলে তিনি। জীবনের নির্মম বাস্তবতা যেন প্রতিটি মুহূর্তে তাকে আঘাত করে চলেছে। যেখানে মানুষের ন্যূনতম চাহিদা একটি নিরাপদ আশ্রয়, সেখানে তার ঘর বলতে রয়েছে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি আর ছেঁড়া নাড়ার ছাউনি। সামান্য বাতাসেই কেঁপে ওঠে সেই আশ্রয়, আর বৃষ্টি নামলেই তা পরিণত হয় পানিতে ভেসে যাওয়া এক অসহায় বসতিতে।
বৃষ্টির পানি টপটপ করে ঝরে পড়ে ঘরের ভেতরেই। ভিজে যায় বিছানা, নষ্ট হয় খাবার, আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তার তিনটি সন্তানের ছোট ছোট স্বপ্ন। অসহায় শিশুগুলো ভেজা মাটিতে কাঁদতে কাঁদতে রাত কাটায় একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?
স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট এই পরিবারটির জীবন যেন দারিদ্র্যের সঙ্গে এক অবিরাম যুদ্ধ। পেশায় একজন সুইপার, দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনোমতে চলে সংসার। এর ওপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও অসহায় করে তুলেছে। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না, তবুও পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগের কালো ছায়া। একফোঁটা বৃষ্টিই যেন তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ। রাতভর পানি ঢোকে ঘরে, শিশুরা কাঁদে, আর বাবা-মা অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকেন কিছুই করার থাকে না।
এই অসহায় পিতার একটাই স্বপ্ন একটি নিরাপদ ঘর।
একটি এমন আশ্রয়, যেখানে তার সন্তানরা অন্তত বৃষ্টির রাতে ভিজবে না, যেখানে তার স্ত্রী একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন আর যেখানে তিনি নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে খুঁজে পাবেন সামান্য শান্তি।
আঃ রহমান ফকির এখনও আশায় বুক বাঁধেন হয়তো একদিন তার ভাগ্যেও জুটবে একটি পাকা ঘর। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলতে পারবেন, এটাই আমার ঠিকানা।
এই আশায় তিনি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো: আল মুক্তাদির রাব্বি বলেন,
আমি ভিডিওতে দেখেছি, তারা সত্যিই অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় জীবনযাপন করছে। তাদের মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।