আপনারা জানেন দেশের পোল্ট্রি খাত আজ ধ্বংসের মুখে। যেখানে প্রান্তিক খামারিরা ৫-৬ টাকা লাভে এক কেজি মুরগি উৎপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মুরগির বাচ্চা ও ফিডের দাম নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ খামারিদের পকেট কাটছে। গত কয়েক বছরে লক্ষাধিক খামারি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।”
বিপিএ-র ৬ দফা দাবি পোল্ট্রি খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট ‘প্রডাকশন কস্ট’ বা উৎপাদন খরচ নির্ধারণ: পোল্ট্রি ফিড এবং মুরগির বাচ্চার উৎপাদন খরচ সরকারকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে এবং যৌক্তিক বিক্রয়মূল্য বেঁধে দিতে হবে।কর্পোরেট একচেটিয়া ব্যবসা (Monopoly) বন্ধ করা: বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি খুচরা বাজারে মুরগি ও ডিম বিক্রি করতে পারবে না। তাদের কাজ হবে শুধু বাচ্চা ও ফিড উৎপাদন করা। তারা বাজারে সরাসরি মুরগি বিক্রি করলে প্রান্তিক খামারিরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।ফিড ও বাচ্চার আমদানিতে শুল্ক রেয়াত ও ভর্তুকি: খামারিদের স্বার্থে মুরগির ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ ভর্তুকি প্রদান করতে হবে এবং বাচ্চার দামের ওপর সর্বোচ্চ সীমা (Price Ceiling) নির্ধারণ করতে হবে।
সহজ শর্তে ঋণ ও বীমা সুবিধা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারিতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য বাধ্যতামূলক পোল্ট্রি বীমা চালু করতে হবে এবং জামানতবিহীন সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সরাসরি বাজারজাতকরণ ও বিপণন ব্যবস্থা: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি উদ্যোগে খামারিদের জন্য সরাসরি ‘সেলস পয়েন্ট’ বা বাজারজাতকরণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আধুনিকায়ন ও তদারকি: অধিদপ্তরকে শুধু বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ না দেখে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং পোল্ট্রি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।আল্টিমেটাম ও উপসংহার
”আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, সারা দেশের প্রান্তিক খামারিরা জেলা পর্যায়ে মানববন্ধন ও খামার বন্ধ রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। আমরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে, সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে।”