আর এ লায়ন সরকার নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: সস্প্রতি বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারের বর্তমান চাহিদার প্রায় ২৫ ভাগ মিটছে ভারত থেকে অবৈধপথে আসা নিম্নমানের চিনিতে। যার কারণে বছরে ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এ অবস্থায় বাজারের বাস্তব চিত্র দেখতে নরসিংদীর পাঁচদোনা বাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ যেন ওপেন সিক্রেট। অবৈধপথে আসা ভারতীয় চিনিতেই চলছে পাঁচদোনা বাজার। দামও পড়ছে বেশ কম।
বিক্রেতারা বলেন, ভারতীয় চিনির চেয়ে দেশী চিনির দাম ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি। তাই ক্রেতারা ঝুঁকছেন ভারতীয় চিনির দিকেই।
সীমান্ত পার হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাঁচদোনাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন বাজারে কীভাবে পৌঁছে যাচ্ছে চোরাই চিনি? এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল, চোরাকারবারিরা দায়িত্ব নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে ঘরে ঘরে।
চোরাই চিনির দাপটে বাজার হারিয়েছে দেশে প্রস্তুত করা চিনি। বিসমিল্লাহ অয়েল মালিক আসাদ বলেন, চোরাই পথে আসা ভারতীয় চিনি দেশের বাজারে ৯২-৯৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশীয় চিনি কিনছেন না ভোক্তারা।
দোকানদাররা বলছেন, পাঁচদোনা বাজারের ভারতীয় চিনি বিক্রির বড় ডিলার লোকনাথ, ননী,চানমোহন, একতা স্টোরের মালিক বিদ্যুৎ চিনি নিয়ে বসে আছেন। অথচ তাদের কাছে আসছেন না ব্যবসায়ীরা। বলেন, চোরাই পথে আসা চিনিতে বাজার সয়লাব। এতে লোকসানে দেশীয় চিনি বিক্রেতারা। কমে গেছে বেচাকেনা।
পাঁচদোনার আশপাশে মিষ্টির দোকান বেকারিতে ভারতীয় মেয়াদীর্ণ তিনি অল্প দামে পাঁচদোনা বাজার থেকে কিনে ব্যবহার করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্ন মানে চিনি দিয়ে উৎপাদিত মিষ্টি এবং বেকারীর খাবার খেয়ে।
বাজারে বেশি বিক্রীত চিনির মধ্যে রয়েছে প্যাকেটের লাল চিনি। আর এ চিনিতেই ভেজাল শুরু করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, প্যাকেটের লাল চিনি মূলত সাদা চিনিই। বিক্রেতারা লাল চিনির ওপর অস্বাস্থ্যকর ও বিষাক্ত হালকা রং মিশিয়ে সাদা চিনিকে লাল বা বাদামি রঙের চিনি করে প্যাকেটজাত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ ভেজাল চিনি খেলে কিডনিসহ শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডেমেজ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া শরীরে তৈরি হওয়ার সুযোগ পায় ক্যানসার ও টিউমারের কোষ। বর্তমান সময়ে বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যা তৈরির বড় একটি কারণও হতে পারে বিষাক্ত এই কৃত্রিম রং। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নরসিংদী পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান চিনিতে কোন ভেজাল পেলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ভেজালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।