বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভেজাল ও মানহীন লাচ্ছা সেমাই তৈরির মহোৎসব। উপজেলার রুপিহার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন তেতুলিয়া (তেতলা গাড়ি) পাড়ায় জনৈক আবু সাঈদের কারখানায় তৈরিকৃত এসব সেমাই কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই খোলা খাঁচায় ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাঁচায় বিক্রি: ধুলাবালি ও জীবাণুর আস্তরণ সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানাটিতে উৎপাদিত সেমাই শুধু প্যাকেটজাতই নয়, বরং বিশাল বিশাল নোংরা খাঁচায় ভরে উন্মুক্ত অবস্থায় বিক্রয় করা হচ্ছে। রাস্তার ধুলোবালি, মাছি এবং অস্বাস্থ্যকর বাতাসের সংস্পর্শে আসা এসব খোলা সেমাই সরাসরি জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো ধরণের ঢাকনা বা সুরক্ষা ছাড়াই এই খাঁচাগুলো পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
উৎপাদন খাতের চিত্রে দেখা যায় এ- যেন এক নরককুণ্ড কারখানার বীভৎস দৃশ্য। শ্রমিকরা অপরিচ্ছন্ন হাতে ময়দা মাখছেন, মেঝের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সেমাইয়ের স্তূপ। কারখানার পাশেই ড্রেন ও নোংরা আবর্জনা। আবু সাঈদের এই কারখানায় নেই কোনো বিএসটিআই (BSTI) সনদ কিম্বা ট্রেড লাইসেন্স। লাচ্ছা ভাজতে ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রামভর্তি নিম্নমানের ও পোড়া পাম অয়েল, যা পুনরায় ব্যবহার করে সেমাইয়ের মানকে বিষাক্ত করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “আবু সাঈদ নিজের বাড়িতেই অবৈধ এই কারখানা বসিয়েছেন। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে গিয়ে দেখা যায় ভ্যাপসা গন্ধে টেকা দায়। এই সেমাই গ্রামের সাধারণ মানুষ খাঁচা থেকে খোলা হিসেবে কিনছে, যার ফলে পেটের অসুখ লেগেই আছে।”
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কোনো বৈধ কাগজ ছাড়া জনবহুল এলাকায় কীভাবে এমন বিষাক্ত খাদ্য তৈরি ও খোলা খাঁচায় সরবরাহ করার সাহস পায় এই অসাধু চক্র?