কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহওমর মাজার সংলগ্ন বিলে কৃষিজমি ও পুকুর ভরাট করে তামাকের গুদাম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আকিজ টোব্যাকো কোম্পানির বিরুদ্ধে। পরিবেশ আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা উপেক্ষা করে ট্রাকে করে বালু-মাটি ফেলে এ ভরাট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহওমর মাজারের পূর্বপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কয়েকদিন ধরে বাইরে থেকে ট্রাকে করে মাটি ও বালু এনে ফেলা হচ্ছে। জমির পাশাপাশি কেনা অংশের অন্তত দুটি পুকুরও ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব জমি সম্প্রতি কোম্পানির পক্ষ থেকে একাধিক মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভরাট কাজ শুরু করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সংশ্লিষ্ট বিলটি ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর শতাধিক বর্গাচাষি এখানে আমন ও বোরো ধান উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জমি ভরাটের ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়বে এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, “শাহওমর মাজারের পাশের বিলের জমিগুলো কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি জমি ভরাট করে শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।” তিনি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, “উপজেলায় প্রতিবছর কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। কৃষি ও কৃষক রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে আকিজ টোব্যাকো কোম্পানির দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সদরে অবস্থিত তাদের ডিপো অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “পরিবেশ আইনে পুকুর ভরাট ও কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে চাষাবাদ ও পরিবেশ—দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।