পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রান্তিক আদিবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে নাগরিক সমাজের আল্টিমেটাম,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। একইসাথে দুর্গম পাহাড়ের দূরবর্তী এলাকার ভোটার এবং সমতলের আদিবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৭,জানুয়ারি, মঙ্গলবার সাগর রুনী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির, মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার ও আদিবাসীদের অধিকার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিন দফা দাবি,সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রাখার দাবি জানান। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. চুক্তি বাস্তবায়ন: ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা। ২. ভূমি অধিকার: পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা। ৩. প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।দুর্গম পাহাড়ের ভোটারদের সংকট,বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের অনেক দুর্গম ভোটকেন্দ্র সাধারণ লোকালয় থেকে কয়েক মাইল দূরে। যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না।পার্বত্য এলাকার অনেক পাড়া থেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে সারা দিন লেগে যায়। নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ভোটকেন্দ্র বা বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।”সমতলের আদিবাসীদের বঞ্চনা
সমতলের আদিবাসীদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিতে জটিলতা এবং প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন না। সমতলের আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘লিপ সার্ভিস’ বাদ দিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে দল আদিবাসীদের অধিকার ও শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা দেবে, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরা তাদেরকেই সমর্থনের বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।