পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ধীরে ধীরে গয়ালের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই পার্কে বাচ্চাসহ ২২টি গয়ালের একটি সুসংগঠিত পরিবার গড়ে উঠেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ভবিষ্যতেও এখান থেকে গয়ালের বংশ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ১৯৯৯–২০০০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন এই পার্কে বিলুপ্তপ্রায় পাহাড়ি গয়াল ছিল না। পার্কের কার্যক্রম শুরুর প্রায় এক যুগ পর, ২০১১ সালের দিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে উপহার হিসেবে দুটি পুরুষ গয়াল আনা হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি স্ত্রী গয়াল সংযোজন করা হলে বিপরীত লিঙ্গের সমন্বয়ে গয়ালের প্রজনন শুরু হয়।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম জানান, শুরুতে আসা সেই দুই জোড়া গয়াল থেকেই বর্তমানে বাচ্চাসহ ২২টি গয়ালের পরিবার গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা দেশীয় পাহাড়ি গয়ালের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাহাড়ি গয়াল গরু প্রজাতির প্রাণী, যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাইসন বা বনগরু নামেও পরিচিত। গয়ালের মাংসের চাহিদার কারণে শিকারিদের হাতে এই প্রাণীটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। তবে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় এখানে নিয়মিতভাবেই গয়ালের বংশ বিস্তার হচ্ছে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, গয়াল তৃণভোজী প্রাণী এবং সাধারণত হাতির পালের সঙ্গে চলাফেরা করে। গহীন বনাঞ্চলের ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকা এদের বেশি পছন্দ।
সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পার্কের গহীন জঙ্গলের ঘাস ও ফলমূলের পাশাপাশি সকালে ও বিকেলে গয়ালদের জন্য বিভিন্ন সবজি সরবরাহ করা হয়। তিনি জানান, গয়াল বছরে একবার একটি বাচ্চা প্রসব করে এবং সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেঞ্জার মঞ্জুরুল আলম বলেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের কারণে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে গয়ালের প্রজনন সফল হচ্ছে। বর্তমানে আলাদা বেষ্টনী না থাকলেও জেব্রার বেষ্টনী এলাকায় গয়ালগুলো চলাচল করছে। ভবিষ্যতে গয়ালের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।