সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাদারপাড় গোরাগ্রাম বিলের পাড় কনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের একটি বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
কনের বাড়ির সামনে বরযাত্রীদের স্বাগত জানাতে তৈরি করা হয় তোরণ, অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত ছিল সুস্বাদু খাবার। দুপুরের দিকে ৩০-৪০ জন বরযাত্রী কনের বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। এমনকি বিয়ের নিবন্ধনের জন্য কাজিকেও ডাকা হয়।
তবে কনের বয়স নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে প্রশাসন। জানা যায়, কনে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী এবং তার বয়স মাত্র ১৫ বছর।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। তিনি স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে কনের মা ও স্বজনদের বাল্যবিবাহের কুফল এবং রাষ্ট্রীয় আইন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না এ মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এ সময় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে একই উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনাইকান্দি লক্ষনছড়া গ্রামের রাজু নামের এক যুবকের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
বাল্যবিবাহ বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন,
বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর মাধ্যমে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না, এই মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।