নরসিংদীর শিবপুরে প্রায় এক দশক আগে ঘটে যাওয়া কিশোর রায়হান হত্যাকাণ্ডের আজও সম্পন্ন হয়নি বিচার কার্যক্রম। দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মামলার প্রকৃত আসামিরা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে পারিবারিক বিরোধ, রহস্যময় সম্পত্তি লেনদেন এবং সাক্ষীদের নীরবতা মামলার তদন্তকে চরমভাবে জটিল করে তুলেছে।
শিবপুর মডেল থানার মামলা নম্বর ৩৪/২৮/১৪ ইং সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়ার পর শিবপুর এলাকার একটি নদী থেকে রায়হানের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন রায়হানের সাথে তার আপন বড় ভাই আতাউর রহমান সোহেল মিয়ার কথাকাটাকাটি হয়েছিল দাবি স্থানীয়দের। এরপরই রায়হান নিখোঁজ হন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের কাছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তিনি মামলার বিস্তারিত বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও মুখ খুলতে পারছেন না। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আলহাজ্ব মাসুদুল হক মাস্টার এবং আতাউর রহমান সোহেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
হত্যাকাণ্ডের পর রায়হানের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বড় ধরণের অভিযোগ উঠেছে। রায়হানের মা ও তিন বোনের সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সম্পত্তি লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মামলার সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া নিজেই রায়হানের পরিবারের সম্পত্তি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। একজন সাক্ষী হয়েও বির্তকিত সম্পত্তি কেনার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্পত্তি লেনদেনের সাথে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না এমনই নানান প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনমনে।
নিহতের স্বজন সুলতান মাহমুদ জুয়েল বলেন, আমি ন্যায় বিচার চাই বলেই প্রতিবাদ করছি। মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে আমাদের পরিবার নিরাপদ নয়। তিনি মামলার পুনঃতদন্ত এবং সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। আদালত যদি মনে করেন এবং নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত পুনঃপর্যালোচনার নির্দেশ দেন, তবে আইনগতভাবে তা সম্ভব বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে উচ্চতর তদন্ত সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সমাজের সচেতনমহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী।