দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ আটজন নেতাকে বহিষ্কারের পর নরসিংদী জেলা বিএনপিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জেলা সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরীর বিষয়টি। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে অপেক্ষায় রয়েছে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নরসিংদী-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তবুও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামাল আহমেদ চৌধুরীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, একই অপরাধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের বহিষ্কার করা হলে জেলা পর্যায়ের নেতাদের ক্ষেত্রেও সমান সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া উচিত।
এদিকে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের দিন জামাল আহমেদ চৌধুরীকে সাংবাদিকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব থাকেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“কে দাঁড়াবে, কে দাঁড়াবে না—এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা একজন নাগরিকের অধিকার। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন দলই ভালো বুঝবে, কী সিদ্ধান্ত নেবে।”
তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরাম থেকেই আসবে।
তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে রয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।