দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধক্ষ্য সহ ৭ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে কলেজের অভ্যন্তরীন জটিলতা ক্রমশই বাড়ছে। পক্ষে- বিপক্ষে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। অবসরে যাওয়ার ১৪ দিন বাকি থাকতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। উপাধ্যক্ষ সহ ৭ কর্মকর্তা- কর্মচারীর নিয়োগ দেওয়া হলেও এমপিও ভুক্ত হয়েছেন উপাধাক্ষ্য। উপাধাক্ষ্য সহ ৭ কর্মকর্তা – কর্মচারীর বেতন অন্যায় ভাবে বন্ধ করার প্রতিবাদে কলেজের সামনে অভিভাবক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১ ডিসেম্বর কলেজের একজন শিক্ষককে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এর দুইদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কে বা কারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের রুমে তালা মেরে দেয় এবং তার নেমপ্লট সরিয়ে ফেলে। একই দিন সকাল সাড়ে ৯ টায় কলেজের সামনে উপাধাক্ষ্য সহ সাত কর্মকর্তা কর্মচারীরদের বেতন ভাতা বন্ধ করার প্রতিবাদে অভিভাবক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব কৃঞ্চ মন্ডল শিক্ষকের রুমে গিয়ে মানববন্ধনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের আহবান জানান। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধি জগলুল আলম, উপাধাক্ষ্য মাহফুজার রহমান, জিবির সদস্য ফরিদ আহমেদ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব কৃঞ্চ মন্ডল উপাধাক্ষ্য মাহফুজার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সহযোগী করার জন্য সকল শিক্ষকদের আহবান জানান। দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৌলতপুর থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে তার ভিতরে প্রবেশ করেন এবং উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্ধার বৈঠক করেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ্ নওরোজী কবির বলেন, ” সকালে অফিসে এসে দেখি আমার রুম তালাবদ্ধ, আমার নেমপ্লেট নেই। পরবর্তীতে দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, দৌলতপুর থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে তালা খুলে রুমে প্রবেশ করি”। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ” কলেজের জটিলতার বিষয়টি হলো একটা নিয়োগের বিষয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেটা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো- ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম এবং প্রক্টর ফারুক আহমেদ স্বরজমিনে এসে তদন্ত করে গেছে। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, ” নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে আমি কোথাও জড়িত ছিলাম না। তারপরও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্নীতির দায় আমার উপর চাপাতে চেয়েছিল। তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান ২০ জুলাই নিয়োগ অনুমোদন সভা আহবানের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুল লতিফকে পরামর্শ দেন। সভা আহবান করলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। ২৩ জুলাই সভাপতি পুনরায় অধ্যক্ষকে নিয়োগ অনুমোদনের সভা আহবান করার অনুরোধ করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাতে রাজি হননি এবং রাজি না হওয়ায় কারনও সভাপতির কাছে ব্যাক্ষা করেন। এ কারনে সভাপতি অধ্যক্ষের উপর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিধি বহির্ভুত সভা আহবান করেন। ২৩ জুলাই তার পছন্দকৃত বাহিরের একটি অডিট ফার্মের কমিটি নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ২ দিনের সময় দিয়ে ২৯ জুলাই কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার পরও বিধিবহির্ভূতভাবে এক নোটিশে অবসরে যাওয়ার ১৪ দিন পুর্বে অন্যায়ভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৪ আগষ্ট কার্যদিবস শেষ হওয়ার পর অপরাহ্নে অধ্যক্ষ বিধি অনুযায়ী কলেজের জৈষ্ঠ শিক্ষক নওরোজী কবিরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। সেই থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নওরোজী কবির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।