পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শাটডাউন কর্মসূচির মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নিজেই তালা ভেঙে পরীক্ষার কার্যক্রম চালু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ। বৃহস্পতিবার সকালে মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগানো দেখে ইউএনও নিজ উদ্যোগে হাতুড়ি ও ইলেকট্রিক মেশিন ব্যবহার করে তালা খুলে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে পরীক্ষার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।
জানা গেছে, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পরিষদ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলায় ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮১৬ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ অফিসকক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেন। এতে উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার ৫শ’ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা ব্যতীত অন্য শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকায় অভিভাবক ও কর্মচারীদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিউলি বেগম বলেন, শাটডাউন কর্মসূচি চললেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া যায় না। তাই অভিভাবকদের সহযোগিতায় যেভাবেই হোক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একই পরিস্থিতি দেখা যায় কলাপাড়া পৌরসভার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে প্রধান শিক্ষক ইউএনও’র নির্দেশে পরীক্ষা নিলেও সহকারী শিক্ষকরা অসহযোগিতা করায় একাই পরীক্ষা পরিচালনা করতে হয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও কাউসার হামিদ বলেন, শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা কোনোভাবেই বন্ধ থাকতে পারে না। আন্দোলন-দাবির বিষয়টি সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষ হলেও পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, টানা আন্দোলনের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ছে। তারা দ্রুত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানান।
শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকায় উপজেলায় পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ এখনো অস্থিতিশীল। তবে প্রশাসন ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।