বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যদি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে আমরা একটি “নতুন বাংলাদেশ” গড়ে তুলবো। এই নতুন বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারে পরিপূর্ণ। ইনশাল্লাহ, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়ন করবো।
রোববার ৯ নভেম্বর সকালে নরসিংদী-২ পলাশ নির্বাচনী আসনের ঘোড়াশালের ঘোড়া চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন রাজনীতিকে অনুসরণ করে এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা পুনরায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লাখো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিল দুটি প্রধান উদ্দেশ্যে — প্রথমত, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা; দ্বিতীয়ত, দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী আচরণ করে ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। তখনই বাংলাদেশের মানুষ বিদ্রোহ করে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটায় এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।”
ড. মঈন খান বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালরাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। আজ আমরা ৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণ করতে র্যালির আয়োজন করেছি, যাতে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনো অন্যায়, পরাধীনতা, জুলুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভোটাধিকার হরণ মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।”
র্যালিতে আরও উপস্থিত ছিলেন— পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূঁইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া, পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেল প্রমুখ।
র্যালিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। পুরো ঘোড়াশাল এলাকা বর্ণাঢ্য মিছিল ও শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।