গত কয়েকমাস ধরেই গুঞ্জন চলছিল দুর্নীতিবাজ নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনকে সরিয়ে দিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সিইও হিসেবে রাবিদ ইমামের মতো যোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য “জাদুবলে” এখনো আওয়ামী দোসর এবং সাবেক বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের “চামচা” সুজন সিইও হিসেবে বহাল আছেন।
বিসিবি’তে এক যুগ ধরে টিকে থাকা “১৭% কমিশন ম্যান” হিসেবে পরিচিত এই সুজন। আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী যেখানে চুক্তিবদ্ধ, আর যার মেয়াদ দুই থেকে তিন বছর হয়ে থাকে, সেখানে বিসিবি’র সিইও পদে টানা এক যুগ থেকে বহাল তবিয়তে নানা অনিয়ম করেও টিকে আছেন নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বিসিবি’র সাবেক সভাপতি আওয়ামী দোসর নাজমুল হাসান পাপনের মেয়াদের পুরোটা সময়েই প্রধান নির্বাহী বা সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি যে বেতনে সিইও হিসেবে ঢুকেছিলেন, তা এই এক যুগে ১০০ গুন বাড়ানো হয়েছে!
পাপন আমলে বিসিবির সকল দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তিনি। কারন, বিসিবি’র প্রতিটি চুক্তি এবং আর্থিক অনুমোদনে পদাধিকার বলে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষর থাকতেই হবে এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ১৭% কমিশন ছাড়া বিল ছাড়তেন না। গ্রাউন্ড স্টাফ নিয়োগ, ক্রয় কার্যক্রম থেকে শুরু করে গ্রাউন্ডের ঘাস কাটা ও চুনকাম কাজ থেকেও কমিশন নিতেন সুজন। এক কথায় নিজের আখের গোছাতে কোন অংশে কম ছিলেন না নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।
বিসিবি’র গত বোর্ড যেভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নির্মাণে ঝুঁকেছিল, তাতে দুর্নীতির জাল বিস্তার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন তাই নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজনেকে সেই দুর্নীতিবাজ বিসিবি’র সব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সহযোগী হিসেবে দাঁড়াতেই হচ্ছে কাঠগড়ায়। বিসিবি’র মহা দুর্নীতির সহযোগীকে এই দায়িত্বে রেখে কী দুর্নীতিমুক্ত ক্রিকেট বোর্ড সম্ভব? এই অন্তর্বর্তী সরকার যেখানে দুর্নীতি নির্মুলে সংস্কার কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও পদে পরিবর্তন এনেছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সচিবকে পদত্যাগে এবং অবসরে বাধ্য করতে দ্বিধাবোধ করেননি, সেখানে সিইও পদে কোন ক্ষমতায় এখনো বহাল সুজন, সেটাই ক্রিকেট ভক্তদের প্রশ্ন।
সিইও পদটি সাধারণত চুক্তি ভিত্তিক, দুই-তিন বছরের হয়ে থাকে। অথচ এই সিইও সুজন বোর্ডের আগের কিছু দোসর ডাইরেক্টরদের সাথে এক হয়ে বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে থেকেছেন। বিগত বছরগুলোতে ট্যালেন্ট হান্ট করতে দেয়নি সুজন; যা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে ধ্বংসের একটা বড় ষড়যন্ত্র।
মিস্টার ১৭% সুজনকে চেঞ্জ করে যোগ্য, সৎ ও তরুণ কাউকেই সিইও হিসেবে দেখতে চাই আমি। আমি যখন ডেইলি স্টারে কাজ করতাম, তখন রাবিদ ইমাম সেখানে স্পোর্টস রিপোর্টার ছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী এবং যোগ্য রাবিদ ইমামকেই আমি সিইও পদে দেখতে পেলে খুশি হবো। সেটাই আমাদের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলেই আমার বিশ্বাস। আশা করি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেবেন।