চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দত্তবাড়িকে হেরিটেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ সাংবাদিক মোস্তফা নঈম সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
জেলা প্রশাসকসহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খুব আন্তরিকভাবে এই বিষয়টি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। জেলা প্রশাসন অফিস থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সম্প্রতি, ২৯ অক্টোবর, বুধবার সকালে, এসি ল্যান্ড বোয়ালখালী কানুনগোপাড়ার দত্তবাড়ি ও সংলগ্ন মুক্তকেশী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
এখন স্থানীয় জনগণ আশা করতে পারে যে, দেশের বিখ্যাত ও আলোকিত এই দত্তবাড়িকে হেরিটেজ হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
দত্তবাড়ি শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক সম্পদ নয়, এটি চট্টগ্রামের শিক্ষার ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কানুনগোপাড়ার ঐতিহ্যবাহী স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ (১৯৩৯), মুক্তকেশী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯২৮) এবং ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ড. রেবতীরমণ দত্তসহ কীর্তিমান ১১ ভাইয়ের জন্মভিটা হিসেবে দত্তবাড়ির গুরুত্ব অপরিসীম।
ব্রিটিশ ভারতের একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে, ড. রেবতীরমণ দত্ত তাঁর নিজ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অবিশ্বাস্য কর্মযজ্ঞ চালিয়ে গেছেন। তাই, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশের সরকারী সংস্থাগুলোর উচিত দত্তবাড়িকে সুরক্ষিত রাখা, যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যবাহী জায়গার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং উপকৃত হতে পারে।
এভাবে, দত্তবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং হেরিটেজ ঘোষণা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে একটি নতুন প্রবাহ সৃষ্টি করবে, যা স্থানীয় সমাজের জন্য একটি উৎস হিসেবে কাজ করবে।