বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, “আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে নিজেরাই এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।”
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখেরও বেশি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে বিএনপির এমন কোনো নেতা নেই যার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন চালায়নি। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল এদেশ থেকে বিরোধী দল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। কিন্তু সেই দমন-পীড়নে বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়নি; বরং আজ আওয়ামী লীগ নিজেরাই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
সোমবার ২৭ অক্টোবর দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—যেসব স্বৈরাচারী শাসক নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করেছে—তাদের কেউই টিকে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগও সেই পরিণতির দিকেই এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজ অন্তবর্তী সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে, বিএনপি তিন বছর আগেই দেশের গণতন্ত্রকামী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। বিএনপি সেই সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপিকে কেউ সংস্কার শেখানোর প্রয়োজন নেই।
এক-এগারো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এক-এগারো বাংলাদেশে আর আসবে না। কেউ যদি মনে করে, তা আবার ফিরবে, তবে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে।”
আলোচনা সভায় পলাশ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নিছার আহমেদ খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল হক, সহসভাপতি আওলাদ হোসেন জনি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. বাহাউদ্দীন ভুঁইয়া মিল্টন, প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাজী জাহিদ হোসেন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, পৌর মহিলা দলের সভাপতি শাহানা পারভীন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বখতিয়ার হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হক মোমেন, সদস্য সচিব শাহীন বিন ইউসুফ, যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ আহমেদ পিন্টু প্রমুখ।