1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
রাজস্থলী ৪টি পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষকরা মাথা উঁচু করে দাড়াতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা এগোতে পারব না : বিসিবি পরিচালক ‎বকশীগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ আত্রাই ও রানীনগরে অত্র এলাকার সংসদ সদস্যের নিজস্ব অর্থ য়ানে দুটি পুলিশ বক্সের উদ্বোধন হালুয়াঘাটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ মিরপুরে পরিবহন মালিকদের সাপ্তাহিক সভা ,নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে যাত্রীসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষার আহ্বানে উজিরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ভৈরবে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি

এলিয়েন থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পরে উপজাতি, এখন চায় আদিবাসী; বাংলাদেশের পাহাড়ে বাঙালির মর্যাদা কোথায়?

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ০ দেখেছেন

বিহার থেকে রাখাইন, উড়িষ্যা থেকে আসাম-অরুণাচল এই বিরাট বঙ্গভূমিতে হাজার হাজার বছরের স্থানীয়দের বাসস্থানের দেশ বাংলাদেশে স্থানীয়দেরই নিজ ভূমির অংশ পাহাড় থেকে নিষিদ্ধ করে দিতে চায় সেখানকার “এলিয়েন” জাতিগোষ্ঠীর একটা অংশ আর দেশের স্বার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চাওয়া বামরা।
“এলিয়েন” জাতিগোষ্ঠী বলতে ২৫০-৩০০ বছর আগে মায়ানমার, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র হতে খারাপ-ভালো বা অপরাধী-নিরোপরাধী বা জাতি-গোষ্ঠী যুদ্ধে পরাজিত হিসেবে নৌকাযোগে বা ঝোপজঙ্গল পেড়িয়ে বঙ্গভূখন্ডে ঢুকে পাহাড়ে লুকিয়ে বসবাস শুরু করা মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তনচঙ্গা ইত্যাদি জাতিসত্তাকে, যারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নামে পরিচিত ছিলো পরে তাদেরই স্বাক্ষর করা শান্তিচুক্তিতে নিজেদের আরেকটু সুবিধা নিতে “ট্রাইব” বা “উপজাতি” পরিচয় নেয়। তো এলিয়েনরা এর পর থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা উপজাতি হিসেবে পরিচিত ছিলো। আর এই ভূখণ্ডের আদিপ্রচীন জনগোষ্ঠীও তাদের এলিয়েনের চোখে দেখে নি, তাদের ক্রমান্বয়ে আপন করে নিতে থাকে, পরিচয় সখ্যতা বাড়তে থাকে নিজের ভাই বন্ধু বোন মা বাবার মতোই গ্রহণ করে নেয়, এক হয়।
কিন্তু পর্যায়ক্রমে ২০০৭-২০০৯ সালে জাতিসংঘের এক ঘোষণায় “আদিবাসী” নামের একটি ধারা যুক্ত করে যার মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে অন্যকোন জাতিগোষ্ঠীর প্রবেশ বা রাষ্ট্রীয় স্থাপনা উন্নয়ন এসবে বিধিনিষেধ আরোপ করা। আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের মতো সেই ভূখণ্ডের তারা প্রাচীন ও সর্বপ্রথম বসবাসকারী আদিবাসী হিসেবে যে রিজার্ভেশন পায় যেখানে অন্যকোন ব্যক্তি বা সরকারি কিছু করার অধিকার থাকে না রেড ইন্ডিয়ানদের নিজস্ব অনুমতিপত্র দেয়া ছাড়া। পাহাড়ের সবে আনুমানিক ৭-৯ লক্ষাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা অধিকাংশ ধর্মে কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের ধর্ম বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বা ব্রিটিশ আমলের খ্রিস্টান তারা স্বায়ত্তশাসনের মতো হাস্যকর অযৌক্তিক দাবী করে যাচ্ছিলো এই ছোট একটা দেশে, তারা এই ধারাকে তাদের অবৈধ ফায়দা নেয়ার কু-স্বার্থে নিজেদের বেলায় ব্যবহারের প্রচেষ্টা শুরু করে আর অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের আদিবাসী বলে দাবী করতে থাকে মূলত তাদের অসৎ কিছু নেতৃত্বে কু-প্ররোচনায় পড়ে, নিজেদের আদিবাসী বলার মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলে বসবাস করা আর হাজারো বছর ধরে এই ভূখন্ডের পাহাড় সমতল নদী সমুদ্র রক্ষা করতে যেয়ে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে এই মাটি উর্বর করা জনগোষ্ঠীকে আপমান করতে থাকে পাহাড়ে জীবন জীবিকা আর থাকার জন্য বসবাসকারীদের বহিরাগত বলতে থাকে,
তারা বাংলাদেশের প্রকৃত আদিবাসী মানে বাঙালীদের এই বিশাল ভূখণ্ডের আদিবাসীর পরিচয় ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
যদিও বিপুল সংখ্যক পাহাড়ের এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতিরা নিজেদের এখনো হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা বাংলাদেশী পরিচয়ই দিয়ে থাকেন এটাতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই পরিচয়ই ভালোবাসেন। তারা অখণ্ড সার্বভৌম বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন, একজাতীয়তা বাংলাদেশীতে ঐক্যবদ্ধ জাতিস্বত্বায় চলেন নিজস্ব সত্ত্বা চাকমা মারমা ইত্যাদি পরিচয় সংস্কৃতি ধরে রেখে। তাদের দৃষ্টিতে বাঙালিরা এই ভূখণ্ডের সর্বপ্রাচীন আদিবাসী হলেও পাহাড়ি বাঙালি সব একসত্ত্বা বাংলাদেশী এক পরিবার।
তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী, ষড়যন্ত্রকারী আর বিভেদকারী গোষ্ঠীর মিথ্যা প্রপোগেন্ডা ব্রেনওয়াশ উগ্র সন্ত্রাসী চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ জিইয়ে রাখতে পাহাড়ে “আদিবাসী” আর “স্বায়ত্তশাসন” নামের কৃত্রিম অসৎ তত্ত্বের আরেক উদ্দেশ্য হলো পাহাড় রেড ইন্ডিয়ানদের মতো রিজার্ভেশন নেয়া, তারপর স্বায়ত্তশাসন করা, এরপরে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত করে যুদ্ধ লাগানো জুম্মল্যান্ড নামক মিথ্যার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অথবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রতি ঈর্ষান্বিত থেকে ভারত বা মায়ানমারে যোগদান করা। এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের উন্নত অস্রসস্র সহো সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণও নেয় ভারতে বা মায়ানমারের গহীন জঙ্গলে, প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে। পাহাড়ে বসবাসরতো সকল জাতিগোষ্ঠী তাদের কাছে জিম্মি, এই দূর্গম অঞ্চলে জীবন বাজি রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আর জনসাধারণের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত রাখতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
এখন আসি টপিক্যাল বাম ও বিশিষ্ট নাগরিক মেন্টালিটিতে। সাম্প্রতিক এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মেয়ে ধর্ষণকাণ্ডের অভিযোগে পাহাড়ে সমতলে একযোগে প্রতিবাদ হয়, অপরাধীদের ১ম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করলেও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইন্ধন দিয়ে বিশাল ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে। সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকে আহত হয়, ঘড় বাড়ি দোকানপাট মসজিদ ভাংচুর হয় আগুন দেয়া হয়, রাস্তাঘাটে অবরোধ হয়। ১৪৪ ধারা জারি হয়, এই ধারা ভেঙে রাস্তা অবরোধ করতে গেলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী, আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তাবাহিনী ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়, গোলাগুলি হয় এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ জন নিহত হওয়ার খবর আসে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে অবস্থানরতো বাঙালি আর নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে জঘন্য কিছু প্রপোগেন্ডা কথাবার্তা বলতে শুরু করে বামরা।
বাঙালির আদি সীমানা যেখানে পাহাড় পেরিয়েও বহু দূরে রাখাইন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো ওখানকার রোহিঙ্গারা এখনো বাঙলি চাটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে, বাম আর ষড়যন্ত্রকারীরা কোন হিসাবে এখানকার আর্মি আর বাঙালিকে ইস°রায়েলীর সাথে মিথ্যা তুলনা দিচ্ছে, আর্মি আর বাঙালিরা কি উড়ে আর জাহাজে এসে জুড়ে বসেছে এই ভূখণ্ডে, পাহাড় কি এই ভূখণ্ডের বাইরে?
এই অঞ্চলের মানুষের জন্য পাহাড়ে কি সমতলে যাওয়া আসা, বসবাস করা, ব্যবসা বাণিজ্য করা, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ পর্যটন ধর্মীও প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অধিকার হরণ করার মেন্ডেট কাউকে কি দেয়া হয়েছে? বৈষম্যবিরোধী এই দেশে তাহলে কোন হিসাবে অঞ্চলভেদে বৈষম্য করা হচ্ছে যে পাহাড়ে সমতলের মানুষ যেয়ে থাকতে পারবে না কিছু করতে পারবে না, বন বিভাগ পাহাড় রক্ষা করতে পারবে না দূর্গমে সেনা নিরাপত্তা রাখতে পারবে না?
পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ দলবল নিয়ে সমতলে আসছে, এখনো অনগ্রসর কোটা নিয়ে শয়ে শয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে চাকরি নিচ্ছে, তাদেরকে কি সমতলে কিছুতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে? পাহাড়ে গড়ে মাসে ১/২ জন করে সেনা সদস্য সন্ত্রাসী দ্বারা নিহত হচ্ছে দেশের নিরাপত্তাজনিত দায়িত্বপালন করতে। কুকি চিন, ইউপিডিএফ ও এর অঙ্গসংগঠনের এর মতো সেনাবাহিনী থেকেও আধুনিক এম-১৫, একে-৪৭, মর্টার শেল অস্রের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় রেখে কি হিসাবে আপনারা সেনা প্রত্যাহারের কথা বলতে পারেন?
একবারও তো দেশের সেনা নিহতে দুঃখ প্রকাশ করতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না আপনাদের, আর সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উদ্দেশ্য বলতে শোনা যায় না কর্মসূচি নিতে দেখা যায় না যে তারা অস্র রেখে সাধারণ জীবনে আসুক, তাহলেই তো সেখানে কিছু স্বাভাবিক সেনা বাদে সেনার তো প্রয়োজন থাকবে না বিজিবিই যথেষ্ট সীমান্ত পাহাড়ায়।
সুন্দরবনের বেলায়ও আমরা সেটা দেখেছি ডাকাতরা যখন অস্র সমর্পণ করে সাধারণ জীবন যাপন করতে চায় তখন সে অস্র জমা নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সুন্দরবন থেকে চলে আসে। কখনো কি কোন বাম, বাম রাজনৈতিক দল আর কথিত বিশিষ্ট নাগরিকেরা পাহাড়ি সন্ত্রাসবাদ আর সার্বভৌমত্ব নষ্টের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটা মিছিল দিয়েছে?
দেশের ও পাহাড়ের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ঐক্য আর স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে গভীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উপজাতি সন্ত্রাসী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ-নেতৃত্ব, দেশীও ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী, দেশবিরোধী-বাম-বিশিষ্ট নাগরিক গং আর বেশকিছু রাজনৈতিক দল ও নেতারা।
কেউ সঙ্গানে, কেউ স্বার্থ চরিতার্থ করতে, কেউ না বুঝে বা কেউ ব্রেনওয়াশ হয়ে।
অসন্তোষের হওয়া বাড়াতে বাড়াতে চুড়ান্ত অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য, সুতরাং সময়ক্ষেপণ না করে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী সুপরিকল্পনা আর কর্মসূচি প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অখণ্ডতা আর শান্তিশৃঙ্খলা নসাৎকারী চক্রের এই ষড়যন্ত্রের জালের বিস্তার রোধ করে সমূলে মূলোৎপাটন করে ফেলতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.