সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক ওরফে ফিরকা ফারুকের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ক্ষোভ । সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ডালারপার, হাজিপুরসহ বিভিন্ন নদীপথে বালুবাহী নৌকা থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ ওরফে ফিরকা ফারুকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ও শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাদায় টাকা উত্তোলন করছেন তিনি। প্রতিটি নৌকা থেকে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অর্ধশতাধিক নৌকা থেকে এভাবে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা এবং মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ফারুক মেম্বার ও তার সহযোগীরা।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে মারধর করা হয়, নৌকার আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ফারুক মেম্বার প্রকাশ্যে বলে থাকেন—এই টাকা প্রশাসন (পুলিশ) ও শ্রমিক সংগঠনের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকরা মনে করেন, চাঁদা না দিলে পুলিশ ও সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে যাবে।
স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি, পুলিশ আর সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার টাকা আদায় করা হয়, অথচ এর কোনো হিসাব থাকে না।
একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফারুক মেম্বার মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক মেম্বারের রয়েছে একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী। এই বাহিনী ডালারপার, হাজিপুর, প্রতাপপুর, নতুন বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা থেকে নিয়মিত টাকা তোলে। প্রতি নৌকা থেকে ২,০০০–৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। মাসে এভাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি অবৈধ আয় হয়।
শ্রমিকরা জানান, ভয়ের কারণে তারা বাধ্য হয়েই চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফারুক মেম্বার একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। একইসঙ্গে ইউনিয়ন শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি। এছাড়া তিনি সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবেও পরিচিত।
এই সব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সাধারণ মানুষ তাকে ভয় পান।
শ্রমিকদের দাবি, ফারুক মেম্বার প্রকাশ্যে হুমকি দেন,উল্টাপাল্টা করলে মামলায় জড়িয়ে দেব,ফলে ভয়ে কেউই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
এই ব্যাপারে সরজমিনে গিয়ে যোগাযোগ করলে ফারুক মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,টাকা আমি তুলি না, অন্যরা টাকা ওপেন তুলেন। প্রথমে নাম প্রকাশ না করলেও পরে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন,১/বালু ব্যবসায়ী সংগঠনের সেক্রেটারি হেলাল,২/দক্ষিণ পান্তুমাই গ্রামের আব্দুস শুক্কুর,৩/দক্ষিণ পতাবপুর গ্রামের হজু মুরুব্বি ছেলে মানিক। এছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের মতে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ফারুক মেম্বারের হাতেই, তার প্রত্যক্ষ নির্দেশেই লাঠিয়াল বাহিনী চাঁদা আদায় করে।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিক প্রমাণ,ডকুমেন্টস ও ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত ফারুক মেম্বারের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
একজন নৌশ্রমিক বলেন, আমরা প্রতিদিন চাঁদা দিয়ে চলছি। না দিলে মারধর করে, নৌকার মাল লুটে নেয়। আবার পুলিশের নাম আর শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার টাকা দাবি করে। প্রশাসনকে বলেও কোনো কাজ হয় না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে নিয়মিত রেহাই পাচ্ছেন ফারুক মেম্বার? দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।